ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা : পারমণবিক যুদ্ধ কি আসন্ন?

73
SHARE

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার ভোরে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী উরিতে ভারতীয় একটি ব্রিগেড সদর দফতরে হামলা চালায় চার বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধা। এতে ১৭ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। আহত হয় আরও ১২ সেনা।
এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে তার জবাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে কড়া জবাব দিতে চাইছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটা অংশ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সীমিত আকারে হলেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে উচিত শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ৭৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আর্টিলারি ব্যারেজ স্নাইপার রাইফেলধারী সেনা মোতায়েনসহ অন্যান্য অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুতি নিতে মনোযোগী হতে বলা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ইনডিয়া টাইমস।

ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তান দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি।একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয় থেকে শুরু করে চলতি বছরে পাঠানকোটে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে এভাবে আর কতদিন আমরা চুপ থাকবো?

অন্যদিকে বসে নেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীও।তারা উরিতে ভারতীয় সেনা সদরের হামলার পেছনে পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর যে কোন ধরনের হামলার জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে পাকিস্তান সব ধরনের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ।

জেনারেল হেডকোয়াটার্সে ওই বৈঠকের পর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অভিযান প্রস্তুতিতে সন্তোষ জানিয়ে পাক সেনাপ্রধান বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রত্যয়ী জাতিকে নিয়ে প্রত্যেকটা হুমকি কাটিয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্ব ঐক্যের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অশুভ পরিকল্পনাও তারা রুখে দেবে।

তাই নানা সমীকরণ বিবেচনায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানকে মোকাবেলায় একাধিক সামরিক উপায় বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্ণ যুদ্ধে জড়াতে পারে। এক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তে পদাতিক বাহিনীর বা অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানের বিষয়টি আমলে আনা যেতে পারে।

তবে পাকিস্তানে হামলার বিষয়টি ভারতকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ভারতের লক্ষ্য করে মোতায়েন করা আছে।ভারত ২০১৫ সালের জুনে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে জঙ্গি অভিযান চালানোর কথা সামনে রেখে একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান আর মিয়ানমার এক নয়। ভারত সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে পাকিস্তানে কোনো আক্রমণ করা হলে সর্বাত্মক যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে।

স্বাভাবিক কারণেই বিষয়টি নিয়ে ভাবনায় ফেলেছে ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলোকেও।এমনকি আন্তর্জাতিক মহলও কাশ্মীরকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়ে। কেননা, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক যোগাযোগসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তান কিছুটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় দেশটি আক্রান্ত হলে প্রথমেই পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বিবেচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া, দেশটি এর আগেও এই হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, তারা আক্রান্ত হলে প্রথমেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।

গবেষণামূলক এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, চির বৈরী প্রতিবেশী ভারত পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এতে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই দুই দেশের মধ্যে সীমিত পর্যায়েও পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই হলে বিশ্বের আবহাওয়ামণ্ডলের ব্যাপক ক্ষতি শস্যক্ষেত্র ধ্বংস হবে। পরিণামে খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে বহু গুণ খারাপ প্রভাব পড়বে। খাদ্যশৃঙ্খলায় দেখা দেবে বিশৃঙ্খলা।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়্যার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি এই দুটি সংগঠন এই গবেষণামূলক প্রতিবেদনটি তৈরি করে। এর আগে সংগঠন দুটি ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা দিয়েছিল, রকম একটি পারমাণবিক যুদ্ধে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মারা যেতে পারে।

আপনার মন্তব্য