লুকিয়ে থাকা ৫ জংগী হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর!

38
SHARE

গত কিছুদিনের অভিযানে অনেক জংগী ধরা এবং মারা পরলেও পালিয়ে থাকা কয়েকজন জংগী এখন ভয়ানক মাথাব্যয়াথার কারন হয়ে দাড়িয়েছে প্রশাসনের জন্য। এতদিনের অভিযানে তাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও জংগীদের নেটওয়ার্ক এখনও অনেক ক্ষেত্রে অক্ষত আছে। এই ৫ জন হলো মারজান, রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ গান্ধী, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট বাশার, রিপিন ও খালিদ। এছাড়াও সেনাবাহিনী থেকে পদচ্যুত মেজর জিয়া এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। লুকিয়ে থাকা এসব জংগী যেকোন সময়ে বড় ধরনের হামলা করতে পারে এমনটাই আশংকা প্রকাশ করছেন দেশের গোয়েন্দারা।

এদের মধ্যে রিপন ও খালিদ প্রফেসর রেজাউল করিমকে হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর আর তারা দেশে আসেনি। রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ গান্ধী ওরফে গান্ধী নব্য জেএমবি’র উত্তরবঙ্গের কমান্ডার ছিল। গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় সে সন্ত্রাসী পাঠিয়েছিল। যখন কোনও হামলায় দক্ষ সন্ত্রাসীর প্রয়োজন হয়, তখন সে তা সরবরাহ করত উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশানে দুজন এবং শোলাকিয়া একজন সন্ত্রাসী সে পাঠিয়েছিল”।

সর্বশেষ র‌্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজের তালিকার ১৮ নম্বরে ছিল বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট বাশার ওরফে চকলেট। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার লালপুরে। সে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার নিখোঁজের ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট বাশার ওরফে চকলেট নব্য জেএমবির শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম। সে ও মারজান দেশেই আছে বলে জানিয়েছে মনিরুল ইসলাম। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সবচেয়ে কমবয়সী মারজান হলো নতুন জেএমবির কমান্ডার। তার উপরেও আরো কেউ থাকলেও জংগী অপারেশনগুলো তার নির্দেশেই চলে বলে গোয়েন্দারা বলছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত অক্টোবর থেকে জেএমবির তিন থেকে চারজন ন্যাশনাল কমান্ডার পরিবর্তিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মারজান নব্যজেএমবি’র অপারেশন ও ন্যাশনাল কমান্ডার। সে অত্যন্ত ধূর্ত ও জঙ্গি সাংগঠনিকতায় দক্ষ। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ার পর তার কাঁধে দায়িত্ব বর্তায়।

এছাড়াও, এর মধ্যে বের করা হয়েছে গুলশান হামলার টাকার উৎস আর অস্ত্রেত উৎস। হুন্ডি যোগে বাইরে থেকে ১৪ লক্ষ টাকা আসে। আর অস্ত্র আসে ভারত হয়ে।

এখন দরকার আরো ২/১টা সফল জংগী দমন অভিযান। যেহেতু প্রশাসন এক কাজটা এতদিন সফলতার সাথে করে এসেছে, সেহেতু, প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে আছি আমরা আরো একবার সুখবর দেয়ার জন্য। সত্যি কথা বলতে, জংগী দমন অভিযানে প্রশাসনের উপর এমন কনফিডেন্ট মনে হয় আর কখনও হয়নি। তাই প্রশাসনকে ধন্যবাদ এবং সেই সাথে এসব লুকিয়ে থাকা জংগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার অনুরোধ রইল।

আপনার মন্তব্য