কিছু কিছু নব্য প্রজন্মের কিশোর-তরুন-যুবক পরিণত হচ্ছে প্রফেশনাল “লুইচ্চা”-তে

44
SHARE

টাইটেল দেখে ঘাবড়ে গেলেন? আবার মনে করা শুরু করলেন নাকি যে বাংলাদেশীজম এসব কি টাইটেলে আর্টিকেল পোস্ট করা শুরু করল? তাদের রুচি কি নর্দমায় গেল নাকি? অথবা পড়ার আগেই “আনলাইক” দিয়ে দিলেন? ওয়েল, দিতে পারেন, কিন্তু টাইটেলটি একেবারে খাঁটি এবং এভাবে লেখার কারনটা যথেষ্ট উদ্দেশ্যমূলক। অনেকের গায়েও লাগতে পারে টাইটেলটি। কিন্তু কিছু করার নেই, দেখতে তো হবেই।

বছর দুয়েক আগে, একটা ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে গাড়ির জ্যামে প্রায় আধাঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। চারিদিক থেকে গাড়ি, রিক্সা, সিএনজি, ট্রাক, বাস – একাকার। কোনদিকে যাওয়ার জায়গা নেই। তাই একেবারে ইঞ্জিন বন্ধ করেই বসে ছিলাম। পাশে দুটো রিক্সা মুখোমুখি ঠাই দাঁড়িয়ে আছে – দুই রিক্সার চাকায় প্যাচ লেগে গেছে। নড়তে পারছেনা। একজন আরেকজনকে গালি গালাজ করছে। তার মধ্যে একটা রিক্স্যায় একটা নামীদামী স্কুকের ইউনিফর্ম পড়া তিন ছেলে বসে আছে। একজন মাঝখানে উপরে আর বাকী ২ জন দুই পাশে। খুব আমুদে একটা ভঙ্গিতে। বেশী হলে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র তারা, আরও ছোটও হতে পারে। আর তাদের সামনেই, আমাদের গাড়ির ঠিক পাশেই, দুটো মেয়ে, সম্ভবত ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বা নতুন ভর্তি হয়েছে, রাস্তা পার করার চেষ্টা করছে জটলার মধ্যে কিন্তু নড়তেই পাড়ছে না। হঠাত করেই সেই তিন ছেলের একজন মেয়ে দুটোকে দেখে শিষ বাজালো আর আরেকজন উচ্চসবরে গান গাওয়া শুরু করল। গানের কথায় “টিয়া কালারের ড্রেস” টাইপের কিছু একটা। আর মেয়ে দুটোর একজন টিয়া রঙের ড্রেস পড়েছিল। তিন ছেলের ৩য় জন আইস্ক্রিম খাচ্ছিল আর হঠাত করেই মেয়ে দুটোকে দেখে তার আইস্ক্রিম খাওয়ার স্টাইল চেঞ্জ হয়ে গেল। খুব বিশ্রীভাবে আইসক্রিমের চারিদিকে নিজের জিহবা দিয়ে নানা রকমের অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল। মেয়েদুটো এসব খেয়াল করে মাথার ওড়না আরো নীচে নামিয়ে আনল কিন্তু প্রচন্ড বিব্রত। একসময় ছেলে তিনটের কার্যকলাপ খুব বিরক্তিকর আকার ধারন করল আর মেয়েদুটো একটু সরে আসার চেষ্টা করল। অত্যন্ত বিব্রত। পারছে না কান্না করে দেয়। কেমন করে জানি আমাদের দিকে তাকাল। আমরা গাড়িতে দুজন। আমি আর আমার পাশে আমার একজন বন্ধু যে একটা বড় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আমরাও বিব্রত বোধ করলাম হঠাত করেই। মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেল। কি করছে এই তিন পিচ্চি। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাত করেই গাড়ি থেকে নেমে দুই বন্ধু মিলে তিনজনকে রিক্রা থেকে নামিয়ে এনে চড় মেরে দিলাম কয়েকটা। রাস্তার সবাই হতভম্ব। এমনকি মেয়ে দুটোও। আর যারা চড় খেল, তারা চড় খেয়ে হতভম্ব কিন্তু বুঝে গেছে কিজন্য চড় খেয়েছে। এরপর তাদের জিজ্ঞেস করলাম “তোমাদের বাবা-মার ফোন নাম্বার দাও, কথা আছে তাদের সাথে, কোন স্কুলে পড় ইত্যাদি ইত্যাদি। সে এক বিশাল ভেজাল লেগে গেল রাস্তার মাঝখানে। যাই হোক, একজন ট্রাফিক পুলিশে মাঝখান থেকে এসে ব্যাপারটা মিটমাট করে তাদের ঝাড়ি দিয়ে অন্যদিকে পাঠিয়ে দিলেন। আর মেয়েদুটোও চলে গেল।

উপরের এই ঘটনাটি বছর খানেক আগেও মাঝে মাঝে দেখা যেত। কিন্তু এখন আমি প্রায় প্রতিদিনই এধরনের কাহিনী দেখি রাস্তাঘাটে, মার্কেটে, অফিসে, যেখানেই যাই না কেন। এগুলোর নানা রুপ আছে। কিশোর হোক আর তরুন বা যুবক, সবার মাঝে এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা বিরাজমান। সবাই বলতে মেজরিটি। একটা রিক্স্যা ওয়ালা হতে শুরু করে একজন শিক্ষিত মানুষ – সবার মাঝেই এধরনের বিকৃত মানসিকতা বিরাজমান। পাশ দিয়ে একটা মেয়ে হেটে যাওয়ার পর ঘুরে মেয়েটার পেছন দিকে তাকাতেই হবে অনেকেরই! একেবারে মাথা ঘুরিয়ে! আবার সামনের দিক থেকে আসা কোন মেয়েকে চোখ দিয়ে ধর্ষন করে ফেলা তো প্রতিদিনের কাজ। একটা মেয়ে পাড়ার দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনতে গেলে সেই দোকানী আর সেই দোকানে বসে থাকে আড্ডারত মানুষজনের দ্বারা মেয়েটি চোখ দিয়ে একবার ধর্ষিত হয়ে যায়। নামী-দামী জায়গায় যেমন স্টার রেটেড হোটেল অথবা পার্টি সেন্টার বা নামী শপিং সেন্টারে মেয়েদের দেখা মাত্র কমেন্ট, আড়চোখে নানা রকমের অঙ্গভঙ্গি – কত বিষয়ই না আছে।

আমরা প্রতিনিয়ত ইভ-টিজিং করছি – কখনও সরবে, কখনও নীরবে। আমাদের কোন বাছবিচারই নেই ইদানীং। বড় ছোট কোন কিছুই না। ইভ-টিজিং করা এখন একটা স্মার্টনেসে হয়ে দাড়িয়েছে। যত বেশী ইভ-টিজিং, তত বেশী স্মার্ট!। শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত – এগুলো চলছেই। থামার কোন নামগন্ধ নেই। পার্কে, রাস্তা ঘাটে, মার্কেটে, স্কুলে, কলেজে- হেন কোন জায়গা নেই যেখানে এসব হচ্ছে না। ঠিক কোন জায়গায় আসলে নিরাপত্তা আছে মেয়েদের এটা নিয়ে ভাববার বেশ সময় হয়েছে। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সেদেশের নারীরা এমন অনিরাপদ সমাজে বসবাস করে এটা ভাবতেই খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। মানসিক বিকৃতি এমন একটা লেভেলে পৌছে গেছে এখন এগুলো থেকে পরিত্রান পাওয়াও মুশকিল। জানেন গত কদিনে কজন কিশোরীকে খুন করা হয়েছে এর মধ্যে প্রেমের প্রস্রাবে সাড়া না দেয়া জন্য? আর কত মেয়ের অকালে খুন হওয়া, ধর্ষন হওয়া পড়ে আছে এখনও নির্বিচারে? বাংলাদেশে ইভ-টিজিং আর ধর্ষন এগুলো তো হবারই কথা কারন বিচারহীনতা। মানুষের মনে কোন ভয় নেই এখন আর। আইনের ভয়- সেটা আবার কি? আইন তো এখন কেনা যায়, বদলানো যায়। ব্যাপারই না।

তবে এটা দুঃখের এবং আমি বলব আত্মসম্মানের… যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সেদেশে নারীদের নিরাপত্তা বলতেই কিছু নেই। সেদেশের নারীরা প্রতিনিয়ত এসব মানসিক বিকৃতিন মানুষদের ফেস করছে কোন শব্দ ছাড়াই। এটা বেশ দুঃখের, আত্মসম্মানের। লেখাটা এখানেই শেষ করে দিলাম। কারন বাকীটা আপনারাই বলবেন।

আপনার মন্তব্য