মাছের গায়ে খালেদা জিয়ার ছবি !! কমেডি আনলিমিটেড!

106
SHARE

চাঁদের সাঈদীর ছবি দেখা যাওয়ার পর এবার মাছের গায়ে দেখা গিয়েছে খালেদা জিয়ার ছবি! আর সেই মাছওয়ালা পোস্টটি শেয়ার করেছেন ডাঃ জোবায়দা রহমান, তারেক জিয়ার স্ত্রী। শেয়ার করেছেন নিজের ফেসবুকের পেজে। সেখানে আবার ৭,০০০ লাইক পড়েছে এবং ১৪ হাজারের উপর শেয়ার হয়েছে সেই ছবি। এমন কমেডি দেখে “মারহাবা” না বলে পারলাম না।

তার পোস্টে ডাঃ জোবায়দা বলেছেন ” মাশা’আল্লাহ, কেউ আমীন না ববলে যাবেন না
মাছের গায়ে ভেসে উঠলো খালেদাজিয়ার ছবি।
সবাই কমেন্টে আমীন বলুন।”

মাঝে মাঝে এত কমেডি দেখা যায় আমাদের রাজনৈতিক মাঠে যেগুলো দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। রাজনৈতিক প্রচারনা অবশ্যই করতে হয় কিন্তু তাই বলে এভাবে? নিজেদের ট্রোল বানানো? এগুলো কোন শিক্ষিত মানুষের কাজ? তিনি আবার একজন ডাক্তার! তবে এখানে একটা কথা আছে, সেই ফেসভুক পেজটি আসলেই তার কিনা এটা নিয়ে হালকা সন্দেহ থাকলেও ফেসবুকে তার তো আর কোন পেজ খুজে পাওয়া গেল না। এখন এটি তার পেজ না হলেও তার ভক্তের পেজ অবশ্যই। যদিও পোস্টটি দেয়া হয়েছে জুন মাসের ১৯ তারিখে। আর ভাইরাল হয়েছে রিসেন্টলি।

রাজনৈতিক নেতাদের উচিত তাদের নাম ব্যবহার করে এসব উল্টোপাল্টা প্রচারনা বন্ধ করা। এতদিন পর হঠাত এই মাসখানেকের পুরোনো পোস্ট নিয়ে আমরা কথা বলছি কেন? তার পেছনের কারন হলো – এধরনের প্রচারনাগুলোকে আমরা সব সময় হাসি ঠাট্টার ছলে এড়িয়ে যাই কিন্তু এগুলোর একটা ইম্প্যাক্ট থাকে অনেক মানুষের উপরে। ইম্প্যাক্ট না বলে বরং বলা যায় খারাপ ইফেক্ট। যতই বিদ্রুপের খোরাক হোক না কেন, দেশী রাজনীতির পরিবেশ ঠিক করতে হলে এধরনের ব্যাপারগুলোকে মাইনাস করতে হবে যেভাবে পারা যায়। এখন যুগ পাল্টেছে। দেশের মানুষ এখন আর বোকা না। বুঝে শুনে চলতে পারে। সবার পকেটে পকেটে প্রযুক্তি। সবাই অনেক ইনফর্মড। মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটেছে। সেটা হোক শহরে অথবা গ্রামে। তাই নেতাদের বা তাদের কাছের মানুষদের কার্যকলাপের উপর মানুষের তীক্ষন নজর থাকে।

মানুষ একজন নেতার মধ্যে কি দেখতে চাই? দেখতে চায় আসলে নেতা বা নেত্রী হিসেবে তিনি কতটা শক্ত। তার কথার দাম কেমন? তার ব্যক্তিত্ব কেমন? শিক্ষা কেমন এবং সেই শিক্ষার ইম্প্যাক্ট সেই নেতার উপর কেমন? কঠিন সময়ে হাল ধরতে পারে কিনা? মানুষ সম্মান করে কিনা? – এধরনের অনেক কিছু যেগুলো একজন নেতার মাঝে সাধারন মানুষ দেখতে পায়। এখন নেতা যদি এমন হয় যার ছবি চাদে দেখা যায় বা মাছের পেটে, তাহলে ব্যক্তিত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। এমনকি এসব পোস্ট যদি ভুয়া একাউন্ট থেকেও শেয়ার করে ভক্তরা, তাহুএ এমন ভক্তদের কন্ট্রোল করা উচিত এবং খুজে খুজে এধরনের পোস্ট ডিলিট করানো উচিত – নিজেদের মান-সম্মান বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আমাদের দেশে একটা জিনিষ প্রচলিত আছে – “মার্কেটিং নেগেটিভ হলেও মার্কেটিং”। এই ধারা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।

আশা করি ভবিষ্যতে কোন নেতার ছবি মাছের পেটে, চাদে, পুকুরের পানিতে, নর্দমার পানিতে প্রতিচ্ছবি রুপে আর দেখতে হবে না। সাধারন টিভি আর পত্রিকায় দেখলেই খুশী।

 

আপনার মন্তব্য