ভেজাল থেকে সাবধান!!!!

 

ইউসুফ হায়দার

ভেজাল আর নকল পণ্যে ছেয়ে গেছে দেশ। যেদিকেই তাকাবেন, যা কিছু কিনতে যাবেন সব কিছুতেই ভেজাল। খাদ্যে ভেজাল এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, কোনো সচেতন মানুষের পক্ষে কোনো খাদ্যই নিশ্চিন্ত হয়ে খাওয়া সম্ভব হয় না।বাজারে যেসব জুস পানীয় বিক্রি হয় তার সিংহ ভাগই ভেজাল জিনিস।

নামিদামি ব্র্যান্ডের মিষ্টি দেখলে কার না খেতে ইচ্ছে করে? কিন্তু সেসব কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাজারে যে ঘি, বাটার অয়েল ভোজ্যতেল বিক্রি হয় তার সিংহ ভাগও নকলভেজাল।

শিশুখাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তরল দুধে ভেজালের রাজত্ব তো আছেই, এখন আবার প্যাকেটজাত দুধও নাকি ভেজাল। খাদ্য সামগ্রী কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।আম, কলা, আপেল, খেজুর এসব ফল খেতে গেলেও ভয় লাগে- না-জানি কোন বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো আছে?


আইন আছে, আদালত আছে, আছে প্রশাসন। মাঝে মাঝে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান
চলে, কিন্তু বন্ধ হয় মানহীন, নকল আর ভেজাল পণ্য। জরিমানা আর সাজা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে প্রায় সময়। কিন্তু লঘু সাজার কারণে নকলভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য থামছে না।

সারা দেশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মানহীন পণ্য। এর ফলে ক্রেতারা যেমন প্রতারিত হচ্ছে, তেমনি হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী ক্রেতাদের ঠকিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়লেও তা যেন দেখার কেউ নেই।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের মান প্রণয়ন, প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রী উৎপাদন গুণগত মান পরীক্ষা বা বিশ্লেষণ করার দায়িত্বে আছে বিএসটিআই। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনও কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু বিএসটিআই মাত্র ১৫৫টি পণ্য বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করে। বাকি পণ্যগুলো বাধ্যতামূলক না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা তাতে যেমন খুশি তেমন ভেজাল মেশাচ্ছে।

দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর থাকলেও তার তৎপরতাও সীমিত। ভেজাল মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান অনেকাংশেই রাজধানীতেই সীমিত। ঢাকার বাইরে তৎপরতা নেই বললেই চলে। এভাবে কি আর নকল-ভেজাল বন্ধ করা যাবে?

সম্প্রতি হাইকোর্ট খাদ্যে ব্যাপক ভেজাল মেশানোর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে জানতে চেয়েছে, বারবার বলার পরেও ভয়ঙ্কর এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি কেন? সরকারের ঢিলেঢালা মনিটরিং ব্যবস্থা এবং ভেজালের বিরুদ্ধে আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর প্রবণতা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।খাদ্যপণ্যে ভেজাল জনস্বাস্থ্যের জন্য মুহূর্তে এক নম্বর হুমকি। হুমকি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

খাদ্যে নকলভেজাল বন্ধে সরকারি উদ্যোগ বা মোবাইল কোর্টের অভিযান যেমন অব্যাহত রাখতে হবে তেমনি জন্য গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। কেননা, আমার জীবন, আমার স্বাস্থ্য আমাকেই ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া, টাকা দিয়ে কেন আমরা বিষাক্ত এবং ভেজাল পণ্য কিনে খাব?

তাই নকল ও ভেজালে বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে আমাদেরকেই।

 

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in