কেন বাড়ছে এই অপরাধ প্রবণতা

43
SHARE

ইউসুফ হায়দার 

দেশে হত্যাসহ নানামুখী ভয়ংকর অপরাধ বেড়ে চলেছে বাড়ছেও অবিশ্বাস্য হারে গতিতে অপরাধের কারণ ধরনও বিস্ময়কর সম্প্রতি রাজশাহীর নতুন বুধপাড়া এলাকায় মাত্র সাত বছরের পুত্রকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তার মা আবার চট্টগ্রামে ঘটেছে উল্টো রকমের ঘটনা সেখানে ২১ বছর বয়সী একজন ছেলে তার মাকে হত্যার পর নিজে চেষ্টা করেছে আত্মহত্যা করার ওদিকে ফরিদপুরে অতি তুচ্ছ কারণে বাবামাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে ১৭ বছর বয়সী ছেলে বছর এসএসসি পাস করা ওই ছেলে বাবামায়ের কাছে একটি মোটর সাইকেল কিনে দেয়ার আবদার করেছিল কিন্তু বাবা রাজি হননি সেই রাগেদুঃখে ছেলে সারা ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এতে পিতার মৃত্যু হয়েছে মায়ের অবস্থাও আশংকাজক

কুড়িগ্রামের রৌমারিতে নিজের বাড়িতে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে স্বামীস্ত্রীকে সেখানে স্ত্রীকে গলা টিপে এবং স্বামীকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা রংপুরে মাত্র দুই বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে মাদারিপুরের কালকিনীর এক গ্রামে একজন স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক বখাটে যুবক কারণ, তার প্রেমের আহ্বানে সাড়া দেয়নি ওই স্কুল ছাত্রী কদিন আগে রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকেও একই প্রেমের কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছে

মাদারিপুরের ঘাতক যুবক ছিল কলেজ ছাত্র আর সুরাইয়ার ঘাতক হিসেবে দেখা গেছে পোশাক তৈরির দোকানের এক দর্জিকে সে অভিজাত স্কুলের ছাত্রীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব রেখেছিল রাজি না হওয়ায় মেয়েটির ওপর হামলা চালিয়ে বারবার ছুরিকাঘাত করেছে ওই দর্জি সবই ঘটেছে দিনের বেলায় পরিণামে মৃত্যু হয়েছে মেয়েটির ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল পুলিশ ঘাতক দর্জিকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করেছে দিন আগে বরিশালে এক ডোবা থেকে একজন মাদরাসা ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে, সেও সম্ভবত একই প্রেমের কারণে প্রাণ হারিয়েছে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে শেরপুরে একজন কনস্টেবলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে

এভাবেই লাফিয়ে বেড়ে চলেছে নানা ধরনের অপরাধ আগে চুরিডাকাতি করতেও চোরডাকাতেরা দশবার চিন্তা করতো এখন পিস্তল বা রিভলবারের মতো আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তো বটেই, এমনকি ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলতেও সামান্য দ্বিধা করা হচ্ছে না ভয় তো পাচ্ছেই না খুনীরা এমন ভয়ংকর অবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার কর্মীসহ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একদিকে আন্তর্জাতিকতার নামে টেলিভিশনের মাধ্যমে অপরাধমুখী বৈশ্বিক সংস্কৃতির জোয়ার বইয়ে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রায় কোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই বিচার শাস্তি না হওয়ায় প্রশ্রয় পাচ্ছে অপরাধীরা

মানুষের, বিশেষ করে খুনীসন্ত্রাসী এবং অপরাধীদের মনে এমন এক ধারণা বাসা বেঁধে বসছে যেন কোনো অপরাধের জন্যই কাউকে শাস্তি পেতে হবে না ভীতি উদ্বেগের কারণ হলো, বাস্তবেও খুব কম অপরাধীরই শাস্তি হচ্ছে তারও আগে গ্রেফতার করানা করা নিয়ে চলছে টালবাহানা ব্যাপারে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বড়  ভূমিকা

মূলত এজেন্যই অপরাধ কেবল বাড়ছেই অপরাধের ধরনও কম ভীতিকর নয় মা নিজের শিশুকে হত্যা করছে, ছেলে একটা মোটর সাইকেলের জন্য পিতামাতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করছে ওদিকে প্রেমের নামেও চলছে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড শিকার হচ্ছে এমনকি সপ্তমঅষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীরা পর্যন্ত

আমরা মনে করি, কোনো সভ্য সমাজে এভাবে অপরাধ ছড়িয়ে পড়তে পারে না অপরাধ ছড়িয়ে পড়তে দেয়াও যায় না আর সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের পুলিশ এবং আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্য সব বাহিনীকে এমনভাবে তৎপর করে তোলা দরকার, যাতে কোনো অপরাধীই কারাগারের বাইরে না থাকতে ।বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে যে কেউ কোনো অপরাধের চিন্তাও করার সাহস না পায়

আপনার মন্তব্য