আবারও হাতছাড়া হতে পারে সৌদির শ্রমবাজার
October 27, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

আবারও হাতছাড়া হতে পারে সৌদির শ্রমবাজার

ইউসুফ হায়দার 

বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব। দক্ষ এবং অদক্ষ মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি সে দেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে।আর নিজেদের থাকা-খাওয়ার খরচ বাদে তাদের উপার্জিত অর্থের প্রায় সবটাই তারা পাঠিয়ে দিচ্ছে এ দেশে থাকা বাবা-মা কিংবা স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। আর এ রেমিট্যান্সই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ। এ শ্রমজীবী মানুষের পাঠানো অর্থের কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফুলে-ফেঁপে এখন ৩০ বিলিয়নের কোটা ছাড়িয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ ছিল। ইদানীং দুই দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির কারণে সৌদি সরকার বাংলাদেশিদের জন্য আবার ভিসা উন্মুক্ত করছে। ফলে আরও পাঁচ লক্ষ বাংলাদেশি মানুষের সে দেশে কর্মসংস্থান হওয়া সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কিছু লোভী ও প্রতারকের জন্য এ সুযোগটিও হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সৌদিতে অবস্থানকারী সচেতন বাংলাদেশিরা।   

জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী কিছু বাংলাদেশি ঢাকা থেকে বিভিন্নভাবে ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট থেকে দেদারছে যাচ্ছে ইয়াবা, মানুষের হাতে আর কার্গোতেশুরুতে সৌদি কাস্টমস ধারণা করতে পারেনি যে বাংলাদেশিরা এভাবে ড্রাগ পাচারে জড়াবে। অথচ এখন বাংলাদেশিদের ব্যাপারে তারা অনেকটাই অ্যালার্ট। ফলে সে দেশে মাদক পাচারের দায়ে প্রায় সময়ই ধরা পড়ছে বাংলাদেশিরা।

রিয়াদ পুলিশের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় শতাধিক বাংলাদেশি সে দেশে ইয়াবা কেসে গ্রেফতার হয়েছে এপর্যন্ত, হায়ের সহ অন্যান্য জেলে আটক আছে এখনো অনেক বাংলাদেশি।আগে শ্রমিক শ্রেণীর অশিক্ষিত মানুষেরা ক্রাইম করতো, কিন্তু ইয়াবা ক্রাইমে কিছু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং হোয়াইট কলার বাংলাদেশিরাও জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও কিছু বাংলাদেশি সে দেশে আবার অন্য আরেক বাংলাদেশিকে গুম করে কিংবা জিম্মি করেও মুক্তিপণ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে।

কিছু লোভী আর প্রতারকের এসব গর্হিত অপরাধ সার্বিকভাবে বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়ার পথ আবারও বন্ধ হওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ সৌদি সরকারের আইন খুবই কড়া। সম্প্রতি রাজ পরিবারের এক সদস্যকে মৃত্যু দণ্ড দিয়ে তারা সেটাই প্রমাণ করেছে। তাই কতিপয় অসাধু মানুষের কারণে যাতে বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজারটি নষ্ট না হয়, বিশেষ করে দেশের ভাবমর্যাদা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে বাংলাদেশ সরকারকে কড়া নজরদারী করতে হবে।

তাছাড়া, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস দুটি। একটি তৈরি পোশাক রপ্তানি। আর অন্যটি হচ্ছে বিদেশ গিয়ে খেটে খাওয়া মানুষদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তৈরি পোশাক রপ্তানি করে দেশ প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ খাতে আয় হওয়া ফরেন কারেন্সির বিরাট অংশই আবার ব্যয় হয়ে যায় একই খাতের বিভিন্ন কাঁচামাল, মেশিনারিজ আমদানিতে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার বিদেশি এক্সপার্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতেও খরচ হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। তার ওপর আবার মালিক শ্রেণির অর্থ পাচারের বিষয়টি তো রয়েছেই।ফলে এ খাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার খুব একটা জমা হয় না বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের খাতায়।

তারপরও দেশের বর্তমান রিজার্ভে ফরেন কারেন্সির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করল কিভাবে? এক কথায় উত্তর হচ্ছে রেমিট্যান্স।কিন্তু সৌদি আরবের মতো বৃহৎ শ্রমবাজারটি যদি আবারও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে?

অতএব, সময় থাকতেই সাবধান হতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। দেশ থেকে যে কেউ সৌদি যাওয়ার সময় কড়া চেকিংয়ের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে মাদক পাচার। পাশাপাশি প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে দমন করতে হবে তাদেরকেও।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য