আয়নাবাজি এখন ধোকাবাজির খপ্পরে- অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে এই সিনেমা!
October 24, 2016
NahidRains (25 articles)
Share

আয়নাবাজি এখন ধোকাবাজির খপ্পরে- অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে এই সিনেমা!

শেষ পর্যন্ত আয়নাবাজি চলে গেল ধোকাবাজির খপ্পরে। ইউটিউবে, অনলাইনে, গুগল ড্রাইভে, টরেন্ট সাইট – কোথায় নেই এই ছবির লিংক! ফেসবুকে চলছে তার শেয়ার দেদারসে। আহা, কি প্রেম শেয়ারে শেয়ারে। অনেকদিন পর একটা সিনেমা উঠল বাংলাদেশে আর সেই সিনেমাও চলে গেল খরচের খাতায়। আর সবাই দোষ দিচ্ছেন প্রযোযকদের লোভকে। রবির কাছে বিক্রি করে দেয়ার পরই নাকি পাইরেসির খপ্পরে পড়েছে এই সিনেমা। যদিও সত্যতা কতটুকু এখনও কেউ জানেনা।

নিজেও দেখিনি সিনেমাটি। কিন্তু এভাবে খোলাখুলি পাইরেসী দেখে মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে। যারা ছবিটি বানিয়েছেন তাঁদের কস্টের কাজ এভাবে কেউ নষ্ট করে দিচ্ছে – ব্যাপারটা কি তারা জানেন?

যাই হোক, এসব পাইরেসি বন্ধ না হলে সিনেমা বানিয়ে কি লাভ বাংলাদেশে। একটা সিনেমা বানাতে অনেক কষ্ট হয়। আর ভাল সিনেমা তো সহজে কেউ বানাতে পারে না এই দেশে। ২/১ টা যা হয়, তাও যদি পাইরেসীর হাতে পড়ে, তাহলে কিসের কি?

সিনেমাটা দেখা হয়নি ঠিকই। কিন্তু দেখার প্ল্যান ছিল। নিজের সিনেমা তো এখনও বানানো হলো না কিন্তু এই সিনেমার উপর একটু ইন্টারেস্ট ছিল। কিন্তু তার আগেই, হলে যাওয়ার আগেই সেই সিনেমা এখন ফ্রিতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি নানা অপশনে – মানে HD নাকি SD নাকি হল প্রিন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও কত কি? লোগো ছাড়া নাকি লোগো সহ!

তবে এই সিনেমাটা যদি পাইরেসির খপ্পরে না পড়ত, তাহলে দেশের সিনেমার বড় একটা চেঞ্জ আসত। সিনেমাতে না, আসলে পরিবর্তনটা আসত অন্যান্য ফিল্ম-মেকারদের সাহসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কেন জানি মনে হচ্ছে অনেকটা প্ল্যান করেই এই সিনেমার ভবিষ্যতকে নষ্ট করা হলো। এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। জানিনা অমিতাভ সাহেবের ঠিক কেমন লাগছে। তবে সামান্য ফিল্ম মেকার হিসেবে আমার বেশ খারাপ লাগছে। এমনকি মেজাজও খারাপ হচ্ছে। কিন্তু সম্ভবত কিছুই করার নেই।

তবে সিনেমা রিলিজের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিলে হয়তো ভাল হত। তাহলে পাইরেসি করলেও অন্তত কে করেছে সেটা বের করা যেত। সিনেয়ার পাইরেসী বেশীরভাগ সময় হয় হলে গিয়ে ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করে। একটা বিশেষ প্রযুক্তি আছে যেখানে হলে দেয়া সিনেমার প্রিন্ট বা কপিটির উপর একটি অদৃশ্য হলোগ্রাম জুড়ে দেয়া। এই হলোগ্রামটিতে সেই সিনেমাহলের নাম বা লোগো থাকে আর এই লোগো দেখা যায় না। এটি সিনেমা ফ্রেমের যেকোন জায়গায় দেয়া যায় অদৃশ্য হবার কারনে। কিন্তু, যখন কেউ কোন ক্যামেরা দিয়ে সিনেমা হলেই সেই প্রিন্টকে ভিডিও করবে পাইরেসির জন্য, তখন ক্যামেরার ফ্রেম রেটের তারতম্যের কারনে সেই লোগোটি দেখা যাবে চোরের ক্যামেরায়। আর সেই চোর যদি ভিডিওটি কোথাও আপলোড করে, তাহলে সাথে সাথে বুঝা যাবে আসলে কোন হল থেকে পাইরেট করা হয়েছে সিনেমাটি। এরপর ব্যবস্থা যা নেয়ার নেয়া যেতে পারে। এতে করে অন্তত কোন হল থেকে হয়েছে সেটা জানা যাবে। আর ভবিষ্যতে সেই হলকে ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখা যেতে পারে। মাঝে মাঝে অবাক হই, এই প্রযুক্তিগুলো এখনও কেন বাংলাদেশে এলো না। আইপি স্ট্রিম প্রযুক্তিতে সিনেমা রিলিজ করলেও অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু সেই প্রযুক্তি হয়তো আসতে দেরী আছে। এমন না যে বাংলাদেশে ইনভেস্টর নেই, কিন্তু মনে হয় না কারও ইচ্ছা আছে।

যাই হোক, সত্যিকার অর্থেই একটু খারাপ লাগল আয়নাবাজির জন্য – যে সিনেমা আমি এখনও দেখিনি। না চিনি সিনেমার ডিরেক্টরকে, না চিনি তার কলাকুশলীদের। তাও একটু খারাপ লাগল।

পাইরেসির হোতাদের খুজে বের করে একটা উপযুক্ত শাস্তি দিলেই ভাল হবে। সম্ভবত সিনেমাটি আর কদিন পরেই সব হল থেকে নেমে যাবে। কিভাবে জানি বড় একটা স্বপ্নের মৃত্যু হলো। আর্থিক দিক থেকে হয়তো না, তবে আত্মিক দিক থেকে, সিনেমার দিক থেকে।

ভাল থাকুন।

আপনার মন্তব্য