এবারের আমেরিকান নির্বাচনে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হয়নি
October 30, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

এবারের আমেরিকান নির্বাচনে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হয়নি

হাসান শাহরিয়ার 

শিরোনাম দেখে ভড়কে গেছেন, তাই না? কারণ ভোটের বাকি এখনও বেশ কয়েক দিন, অথচ আমি এখনই বলছি যে এবারের আমেরিকান নির্বাচনে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হয়নি! সত্য-মিথ্যা যাইহোক এটা নির্বাচনের পরেই বলার মতো কথা। আর আমি আসলে এমন একটি মন্তব্য দিতে চাই আমেরিকান নির্বাচন পরবর্তী সময়ে।

কিন্তু কেন? কারণ হলো, আমাদের দেশে যখনই কোনো ভোট হয়, তখন নানান দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষকরা আসেন এবং নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়সহ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তারা বিজ্ঞের মতো মতামত ব্যক্ত করেন। আর তারা যেসব মতামত দেন তা জাতি হিসেবে কখনও আমাদের জন্য সম্মানজনক হয় না। বরং ঘটে উল্টোটা।

আপনি হয়তো বলবেন, আমাদের দেশে ভোটচুরি, ভোটডাকাতি, ব্যালটবাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের উপর হামলা-মামলা হয়, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না, তাই বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এসব নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন, এতে দোষের কি আছে? আপনার কথায় সত্য আছে, কিন্তু তাই বলে এসব অনিয়ম কি শুধু আমাদের দেশেই হয়? মোটেই না, বরং অনেক দেশেই কম-বেশি সেটা হয়। কিন্তু আমরা কি পারি সেসব দেশে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে মন্তব্য করতে? আর আমরা যদি নিজেরা না বদলাই তাহলে কি ওই পর্যবেক্ষকদের মতামতে আমাদের ভোটের চরিত্র পাল্টাবে?

আচ্ছা, জর্জ বুশের নির্বাচনের সময়ের ঘটনা কি আপনাদের মনে আছে? সে সময় সাধারণ আমেরিকানদের ভোট বুশের তুলনায় তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বেশি পেয়েছিলেন, কিন্তু ইলেক্টোরাল ভোটের জটিল হিসাবে প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন রিপাবলিকান বুশ। সেখানেই শেষ নয়, একটি অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা নিয়েও গোল বেঁধেছিল, যা আসলে বুশের পক্ষে গেছে। আবার সে রাজ্যের গর্ভনর ছিলেন জর্জ বুশের ভাই জেব বুশ! কি বুঝলেন?

এবারের নির্বাচনেও কারচুপি হতে পারে বরে ঢাক পিটাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ, গতকালের খবরে দেখলাম আগাম জাল ভোট দিতে গিয়ে তারই সমর্থক আটক হয়েছেন! আর আটককৃত ওই সমর্থকের বক্তব্য আরও চকমপ্রদ দিচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগাম ভোটে আইওয়া অঙ্গরাজ্যে জালভোট দেওয়ার অভিযোগে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নারী সমর্থককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার আগের ভোটটি ট্রাম্পকে দিলেও সেটি জালিয়াতি করে হিলারির ভোট হিসেবে গণ্য হয়েছে!!

তার এই অভিযোগ কি আসলেই সত্য? নাকি তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টায় আবল-তাবল বলছেন তারই গুরু ট্রাম্পের মতো?

খবরে আরও বলা হয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী ট্যারি লিন রোট একজন নথিভুক্ত রিপাবলিকান নারী। শুক্রবার তাকে আইওয়ার দেস মনিস কাউন্টি’র পুলিশ গ্রেফতার করে। ট্যারি আইওয়ার পোক কাউন্টি ইলেকশন অফিসে আগাম ভোট দিয়ে পূনরায় দেস মোনিস কেন্দ্রে দ্বিতীয় ভোট দিতে গিয়েছিলেন। আটকের পর অবশ্য শনিবার তাকে ৫ হাজার ডলারের বন্ড সই নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আইওয়া পাবলিক রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্যারি অভিযোগ করেন, তার প্রথম ভোটটি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন বটে, তবে এটি হিলারির খাতায়ই যোগ হয়েছে বলে তার স্থির ধারণা। তিনি এবারের নির্বাচনকে ‘কারচুপির নির্বাচন’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।

এসব কারণেই বলছি, তারা যেমন আমাদের ইলেকশন নিয়ে মতামত দেয়, চলুন তেমনি আমরাও মন্তব্য করি। দেখি তাদের মান-সম্মানে কতটা ঘাঁ লাগে?

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য