কর্ণফুলীকে কি আমরা এভাবেই মেরে ফেলব?


সোহেল হাবিব

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছিল কোনো না কোনো নদীর তীরে।শুধু তাই নয়, আধুনিক নগরসভ্যতাগুলোও নদীকেন্দ্রিক। আর সে কারণেই টেমসের পাড়ে লন্ডন, বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা এবং কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম। লন্ডনের যত সৌন্দর্য এই টেমসকে ঘিরেই শুরু হয়েছে, তারপর তা ছড়িয়েছে নানা মাত্রায়।যা আজও বিদ্যমান। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো।

আমাদের রাজধানী যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সেই বুড়িগঙ্গাকে প্রায় গিলে খেয়েছি আমরা। যতটুকু অবশিষ্ট আছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হয়েই আছে। দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া যেত না এতদিন। ইদানীং কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা সত্যিই এক ইতিবাচক খবর। অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতির হৃদপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর প্রাণভোমরা কর্ণফুলী নদী সেই কর্ণফুলীর এখন চরম মরণদশা চলছে বেপরোয়া দখলবেদখল, দূষণ ভরাটে বিপন্ন হয়ে উঠেছে কর্ণফুলী নদী হুমকির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্যতা

এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, সাড়ে ৫শছোটবড় শিল্পকারখানা, দেশিবিদেশি জাহাজ কোস্টার নৌযান ট্রলারের বিষাক্ত বর্জ্যময়লাজঞ্জাল আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে কর্ণফুলী নদী, নৌচলাচলের মূল (নেভিগেশনাল) চ্যানেল, বহির্নোঙ্গরসহ সমগ্র বন্দর এলাকা ক্রমেই বিষিয়ে উঠেছে নদীর পানি ৬০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম নগরীর বিশাল অংশের বর্জ্যরে ঠিকানাও এই কর্ণফুলীফলে বিলুপ্ত হচ্ছে মৎস্য সম্পদসহ নদীর হাজারো জীববৈচিত্র্য

নদী বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কর্ণফুলীতে মিঠা পানির ৬৬ প্রজাতির, মিশ্র পানির ৫৯ প্রজাতির এবং সামুদ্রিক পরিযায়ী ১৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো দূষণের কবলে পড়ে এর মধ্যে মিঠা পানির প্রায় ২৮ প্রজাতির এবং মিশ্রপানির ১৬ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায় আরও ২০ প্রজাতির অর্থকরী মাছ বিপন্ন  

তাছাড়া, বন্দর চ্যানেল ঘেঁষে কর্ণফুলী মোহনায় কমপক্ষে ১৫৮ একর ভূমি বেদখল হয়ে গেছে নির্বিচারে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা কর্ণফুলীর উভয় তীরের অবৈধ দখল হওয়া জমি উদ্ধারে সরকারের তরফে বার বার আশ্বাস ব্যক্ত করা হলেও তার বাস্তবায়ন নেই থমকে আছে ভূমি বেদখল মুক্ত করতে মোবাইল কোর্টের অভিযান কর্ণফুলী নদীর উভয় পাড়কে কেন্দ্র করে চলছে ভরাট দখলের প্রতিযোগিতা ভূমিদস্যুরা গ্রাস করে নিচ্ছে নদীতীরের জমি, পলিভূমি, সদ্য জেগে ওঠা চর, তলদেশের বালিমাটি

সত্যিই মরতে বসেছে আমাদের বন্দরনগীর প্রাণভোমরা এই কর্ণফুলী। আর এর জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। তাই কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হলে যা করার করতে হবে এখনই।প্রতিরোধ গড়তে হবে তরুণ প্রজন্মকে। এগিয়ে আসতে হবে সরকার বাহাদুরকেও।

 

আপনার মন্তব্য
Previous ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলোর প্রয়োজন কি?
Next স্টোকস শিক্ষাটা পেলেন কার কাছ থেকে?