দশ টাকার চাল এবং আমাদের মানসিকতা
October 13, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

দশ টাকার চাল এবং আমাদের মানসিকতা

সরকার দেশের হতদরিদ্রদের কষ্ট লাঘবের কথা বিবেচনা করে ১০ টাকা কেজি দরে তাদের মাঝে চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই চেষ্টাটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ।কিন্তু হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণে দায়িত্ব প্রাপ্তদের হীনমানসিকতায় সরকারের ভালো উদ্যোগটি এখন একটি হাস্যকর কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

যত রকমে সম্ভব তার সকল কলাকৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে গরিবের এই হক লুটেপুটে খাওয়ার জন্য। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, দৈনিক পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এখনকার প্রতিদিনই প্রচার হচ্ছে এই ১০ টাকার চাল নিয়ে চালবাজির খবর।

সরকারি দলের নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান-মেম্বার, ব্যবসায়ী কিংবা ডিলার কারো নামই বাদ পড়ছে না হতদরিদ্রের তালিকা থেকে। কেউ-বা ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ১০ টাকা কেজির চাল হাতিয়ে নিচ্ছেন, কেউ-বা আবার হতদরিদ্রদের চাল দিয়ে পরক্ষণেই আবার জোরজবরদস্তি করে কম দামে কিনে নিচ্ছেন এসব চাল। যেসব ক্ষেত্রে হতদরিদ্রদের চাল দেওয়া হচ্ছে, সেখানেও দেওয়া হচ্ছে ওজনে কম!

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতদরিদ্রদের কার্ড দেওয়ার আগেই তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার চালের পরিমাণ কম দিয়ে কার্ডবাবদ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা অভিযোগগুলো বিবেচনা করে দেখা গেছে- . কোথাও গরিবের বদলে ধনীরা চাল পাচ্ছেন। . কোথাও ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। . কোথাও ৩০ কেজি চাল দেওয়া টিপসই নিয়ে ১০ থেকে ২০ কেজি দেওয়া হচ্ছে। . তালিকা অনুমোদনের আগেই অনেক জায়গায় চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। . অনেক এলাকায় হতদরিদ্রের নাম তালিকায় আসেনি। . চাল বিতরণে অনভিজ্ঞ দলীয় নেতাকর্মীদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। . বেশ কয়েকটি এলাকায় উপকারভোগী তালিকায় সরকারি চাকরিজীবী, স্কুলশিক্ষক ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের নাম রয়েছে। . কয়েকটি জেলায় খাদ্য বিভাগ থেকে নিম্নমানের চাল দেওয়া হয়েছে। . কার্ডধারী ব্যক্তিদের চাল না দিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। ১০. ব্যানার টানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে চাল বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না

কর্তৃপক্ষ যে এসব জানেন না, তাও নয়। কেননা, কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দোষীদের বিচার করার খবরও আসছে। গণমাধ্যমের কাছে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এমনকি খাদ্যমন্ত্রী নিজেও আংশিক স্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরেও এসব অপকর্ম থামছে না।

আমাদের দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নত হয়ে এখন আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি, তাছাড়া দেশে পয়সাওয়ালার সংখ্যাও বাড়ছে, কিন্তু ঠিক যেখানটায় আসলে আমাদের উন্নতি হওয়া দরকার সেখানটায় এখনও অগ্রগতি আসেনি। আর সেটা হলো আমাদের মন ও মানসিকতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। যদি সে পরিবর্তন আসত তাহলে আমরা হতদরিদ্রদের ১০ টাকার চালের প্রতি এতটা হামলে পড়তাম না।

যাইহোক, সরকার যে উদ্দেশ্যে এবং যাদের জন্য এই উদ্যোগটি নিয়েছিল সেটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হতো তাহলে হয়তো দেশের কিছু দরিদ্র মানুষের সাময়িক উপকার হতো। কিন্তু সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ যে সরকারের লোকজনই কুড়িহাত পানির নিচে ডুবিয়ে দিয়েছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।আর গণমাধ্যমে যে হারে এসব খবর প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে সরকার এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারি লোকজনের কী পরিচয় মানুষে কাছে ফুটে উঠছে তা নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন হবে না।

সরকারের এ্ উদ্যোগটি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া হলেও প্রকৃত পক্ষে এতে সাধারণ মানুষ তথা দরিদ্র মানুষের কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। সেটা ব্যাখ্যা করব অন্য এক পোস্টে।

 

আপনার মন্তব্য