বদলে যাবে বাংলাদেশ
October 20, 2016
Bangladeshism Desk (754 articles)
Share

বদলে যাবে বাংলাদেশ

ইউসুফ হায়দার 

এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ। সাফল্য আসছে একের পর এক। তা দেখে এখন চমকে যাচ্ছে বিশ্ব।বিশাল অংকের ফরেন কারেন্সির কথা তো সবারই জানা। নিজ উদ্যোগে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নও দেখছে বিশ্ব।ক্ষুদ্র ঋণের আঁতুর ঘর তো এই বাংলাদেশই। তৈরিপোশাক খাতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বন্ধ্যা সময় পার করে এখন আবার সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে জনশক্তি রপ্তানি খাতও।

আমাদের সক্ষমতা বাড়তে থাকায় অনেকেই দেখতে আসছে, শিখতে আসছে বাংলাদেশে। এই যেমন বিশ্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম রাকুদিয়ার সাফল্যের চিত্র দেখে অভিভূত। বরিশালের রাকুদিয়ায় বিশ্ব ব্যাংক পরিচালিত একটি চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং গ্রামীণ মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তন দেখাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

গোয়াল ভরা গরু। পুকুর ভরা মাছ। আঙিনায় সবুজ সবজির হাসি। ঘরে ঘরে হাঁসমুরগির খামার। দারিদ্র্যজয়ের এই সাফল্য রাকুদিয়া গ্রামের সংগ্রামী নারীদের। কিভাবে বদলে গেল রাকুদিয়া গ্রাম? তা নিজের চোখে দেখলেন, নারীদের মুখে শুনলেন, কথা বললেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। দারিদ্র্যজয়ের এই অসামান্য সাফল্যে তিনি মুগ্ধ, অভিভূত

রাকুদিয়া গ্রাম ঘুরে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এই গ্রামের শিশুরা আগে স্কুলে যেত না। হতদরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সামান্য ঋণ দেওয়া হলো। সেই ঋণের টাকায় গরু, হাঁসমুরগি, মাছ আর সবজি চাষের মাধ্যমে নিজেদের পাল্টে ফেললেন তাঁরা। দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রমী বলেই সম্ভব হয়েছে। তাঁদের সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, যা দেখে আমিও অভিভূত।

বরিশাল বিমানবন্দর থেকে তিনি মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে পৌঁছান। প্রবেশ করেন দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম সমিতির কার্যালয়ে। যেখানে খুব সকাল থেকেই অর্ধশতাধিক সংগ্রামী স্বাবলম্বী নারী তাঁর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন

শুরুতেই সমিতির কার্যালয়ে তাঁকে স্বাগত জানান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম আই চৌধুরী। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ১৯৮ জন নারীর প্রতিনিধিত্বকারী সমিতির সভাপতি হনুফা বেগম। সকাল ৯টায় সমিতির সদস্যদের সঙ্গে দারিদ্র্যজয়ের গল্প শোনেন বিশ্বব্যাংক প্রধান। বদলে যাওয়ার কথা শোনান সমিতির সদস্য মনি রানী শীল

মনি রানী শীল দারিদ্র্যজয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে বলেন, গ্রামের ৪৭৪টি খানা (ঘর) থেকে ১৮৯ জন নারীর সমন্বয়ে ১৩টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। সমিতির মাধ্যমে আয়বর্ধনকারী গবাদি পশুপালন, সবজি মাছ চাষ, হাঁসমুরগি পালন করে আমরা দারিদ্র্য অনেকটা দূর করতে পেরেছি। সময় গ্রামের  সাফল্যের কথা শুনে উপস্থিত সদস্যদের অভিনন্দন জানান বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম

নারীদের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, এখানে এসে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এখানে দরিদ্র মহিলাদের জীবনমান পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের দারিদ্র্য মোচন হয়েছে।বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশের মানুষ খুবই পরিশ্রমী। খুবই কাজ করতে জানে। এরা সহজে পিছিয়ে পড়ে না।

শুধু রাকুদিয়ার নারীদের সাফল্য নয়, বরং আমরা মনে করি সুযোগ পেলে এদেশের যে কোনো অঞ্চলের নারীরাই পারে তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে। আর শুধু নারীদের কথাই-বা বলি কেন, দেশের তরুণ সমাজ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের চিন্তা চেতনা আর উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে, তাতে আগামী অল্প সময়েই বদলে যাবে বাংলাদেশ।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য