ভারত-চীন-বাংলাদেশ – এক ত্রিভুজ প্রেমের গল্প !
October 17, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

ভারত-চীন-বাংলাদেশ – এক ত্রিভুজ প্রেমের গল্প !

গত কয়েকদিন ধরে, বিশেষ করে চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ আগমনের পর থেকেই স্যোশাল নেটওয়ার্ক বিশেষ করে টুইটার আর ফেসবুকে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে। পাশের দেশ ভারতে চলছে হাহাকার, আর বাংলাদেশে চলছে সুখালাপ। বিষয় – বাংলাদেশে চীনের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। যেখানে ২৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে আর বাকীগুলো প্রাইভেট সেক্টরে। চীনের সাথে নতুন এই দহরম-মহরম সম্পর্ককে পাশের দেশ ভারতে খুব একটা ভাল চোখে দেখছে না। ভারতের গনমাধ্যমে রীতিমত হাহাকার লেগে গেছে গত কদিনে। ভারতীয়রা বলছে “বাংলাদেশ ম্যানেজ হয়ে গেছে”। ভারতীয় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এখন আর চোখেই দেখা যাচ্ছে না চীনাদের ২৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে।

এর আগে ভারতীয় এক পত্রিকার সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত অতিক্রম করে অভিযান চালানোটাকে খুব ভাল কাজ না বলে ঈঙ্গিত দিয়েছেন। তার পরেই আসলেন চীনা প্রেসিডেন্ট। টুইটারে এই নিয়ে ভারতীয়দের অনেক কড়া মন্তব্যও চোখে পড়ছে। যেমন গীতা ভাস্কর নামের একজন বলেছেন ” “ভারতে চীনা প্রডাক্ট ব্যান করো, তাদের অর্থনীতে ধস নামাও। তাহলে তারা বাংলাদেশ থেকে ২৪ বিলিয়ন তুলে নেবে।” অথবা রঞ্জিত কুমার দত্ত নামক ভারতীয় হিন্দু দার্শনীক মন্তব্য করেছে- “চীনের উচিত নয় বাংলাদশ ও ভারতের আন্তরিক সম্পর্কের মধ্যে হস্তক্ষেপ করা। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ ও নেপাল হচ্ছে ভারতের মায়ের পেটের সহদরের মত।আমাদের মধ্যে রয়েছে আন্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। যদি চীন এই সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করতে চায়, তবে ভারত সরকারের উচিত হবে, চীনের সাথে সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া।”

এদিকে একটি বিশেষ মহল সরকারকে সবসময় “ভারতের দালাল” বলে গালিগালাজ করে এসেছেন এত বছর। এবার তাদের মুখে একেবারে পানি মেরে দেয়া হলো। কারন, এতদিন সরকারের কোন ভাল কাজের প্রশংসা করে একটা কিছু শেয়ার করলে এই মহলটা খুব এক্টিভলি মন্তব্য করতে ব্যস্ত থাকত আর তাদের একটা কমন মন্তব্য হলো – “ভারতের দালালী বন্ধ করেন”। এদের জালায় আজকাল ইন্টারনেটে বসে থাকাও বিরক্তিকর।

অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশ এখন আর ভারতকে পাত্তা দিবে না। কিন্তু আমাদের মত বাংলাদেশের সবার সাথেই সুষম সম্পর্ক রয়েছে এবং থাকবে। আর এক্ষেত্রে সরকারের ডিপ্লোম্যাসির ব্যাপক জয় পেয়েছে। আর এরকমই হওয়া উচিত। ব্যালেন্স থাকা উচিত। যাই হোক, বাংলাদেশের অনেক বড় লাভ হয়েছে চীনের সাথে নতুন এই চুক্তিতে। এবং আশা করি, ভবিষ্যতেও হতে থাকবে। আরো একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম – পদ্মা সেতুর লোন বাতিল করা বিশব-ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট নাকি বাংলাদেশে আসছেন দেখার জন্য বাংলাদেশের কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা যায়। হঠাত করে তারা এত ভাল হয়ে গেল? তাছাড়া বাংলাদেশের পুরনো এবং বিশবস্ত বন্ধু রাশিয়াও তো আছে।

ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশ পুরো বিশ্বে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা দেশ এবং যতদিন পারবে, বাংলাদেশের উচিত সেই এডভান্টেজ নিয়ে থাকা।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

 

আপনার মন্তব্য