ভয়ানক পরিণতির দিকে এগুচ্ছে বিশ্ব
October 13, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

ভয়ানক পরিণতির দিকে এগুচ্ছে বিশ্ব

ইউসুফ হায়দার

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার উত্তাপ তো বলতে গেলে আমাদের গায়েই লাগতে শুরু করেছে।তবে তার চেয়েও ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মতবিরোধ।আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সিরিয়া ইস্যুতে ভয়ানক পরিণতির দিকে এগুচ্ছে বিশ্ব। রাশিয়া এবং মার্কিন সম্পর্ক এখন তিক্ততার চরম পর্যায়ে রয়েছে।ফ্রান্সের সাথেও রাশিয়ার সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ছে। আর সে কারণেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি তার ফ্রান্স সফর আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছেন।অন্যদিকে চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক জোটে ঘনিষ্ঠতা গভীর হচ্ছে।

আর এসব কিছু বিবেচনা করেই, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরবাচেভ বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুতে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে বিশ্ব এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে৮৫ বছর বয়সী গরবাচেভ রাশিয়ার বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি মনে করি বিশ্ব এখন বিপজ্জনক অবস্থার দিকে চলে গেছে। আমি বিশেষ কোনো পরিকল্পনার কথা বলব না তবে আমি বলতে চাইআমাদের থামা উচিত।

তিনি আরও বলেছেন, “আমেরিকা রাশিয়ার মধ্যে সংলাপ শুরু করা দরকার। সংলাপ বন্ধ করা বড় ধরনের ভুল।

গরবাচেভের এই বক্তব্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কেননা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এককভাবে আমেরিকা এবং তার মিত্ররাই এতদিন হামলা করে আসছিল। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়ার পর সিরিয়াতেও তারাই যুদ্ধটা শুরু করেছিল। কিন্তু আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়াতে আমেরিকা কারো চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়লেও সিরিয়াতে এসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের দীর্ঘ দিনের মিত্র এখানে চুপ থাকেনি। রাশিয়া এখানে রীতিমত আমেরিকার নীতি, কৌশলসহ প্রায় সব কিছুই গোলমেলে করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং সিরিয়া পরিস্থিতির লাগাম এখন বলতে গেলে রাশিয়ার হাতেই।

স্নায়ু যুদ্ধের পর আমেরিকা এমন চ্যালেঞ্জের মুখে আর পড়েনি।তাই সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়ার শক্ত অবস্থান আমেরিকার আভিজাত্যে মোক্ষম একটা ঘা দিয়েছে, যা সহজে তার পক্ষে হজম করা সম্ভব নয়।

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আগেই খারাপ হয়েছে। ১৯৯১ সালে শীতল যুদ্ধ অবসানের পর এত বেশি খারাপ সম্পর্ক দুদেশের মধ্যে কখনো ছিল না। ইউক্রেন ইস্যুর পাশাপাশি যোগ হয়েছে সিরিয়া সংকট। দু জায়গায়ই আমেরিকা সক্রিয়ভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছে আমেরিকা; এর বিপরীতে সিরিয়ার নির্বাচিত বৈধ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে মস্কো। এরমধ্যে গত সপ্তাহে আমেরিকা সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, সিরিয়ার সরকারি সেনা অবস্থানে হামলার পরকিল্পনা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন

অন্যদিকে, সিরিয়ায় মোতায়েন নিজেদের সম্পদ রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এরইমধ্যে সিরিয়ায় এস৩০০ এবং এস৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে মস্কো এবং মার্কিন সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে রুশ সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সিরিয়ার তারতুসে স্থায়ী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠারও ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এছাড়া, সিরিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনা মোতায়েন রাখার বিষয়ে আইন পাস করেছে রুশ সংসদ। রুশ সীমান্তের কাছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে রাশিয়াও সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। কালিনিগ্রাদে পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে মস্কো। রুশমার্কিন উত্তেজনার ভেতরে রাশিয়া কয়েকদিন আগে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি প্লুটোনিয়াম ধ্বংসের চুক্তি স্থগিত করেছে।  

অবস্থায় গরবাচেভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, “এখনই জরুরিভাবে মূল কাজে ফিরে আসা দরকার। সেগুলো হচ্ছেপরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই এবং জলবায়ু পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকানো।

আমরা শান্তিকামী মানুষ, আমরাও চাই গরবাচেভের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমেরিকা এবং রাশিয়া উত্তেজনার পরিবর্তে ফিরে আসবে শান্তির পথে। আর বিশ্ব বিবেক হিসেবে পরিচিতরা আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুতই সক্রিয় হবেন বলেও প্রত্যাশা রাখি।

 

আপনার মন্তব্য