রাতের সিএনজি থেকে নারীরা সাবধান
October 28, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

রাতের সিএনজি থেকে নারীরা সাবধান

হাসান শাহরিয়ার 

বেশ কিছুদিন আগে একজন কর্মজীবী নারী তার রাতের কাজ শেষে সিএনজিতে করে বাসায় ফেরার পথের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন ফেসবুকে। এবং সে ঘটনার পর থেকে তিনি একা আর সিএনজিতে ওঠার চেষ্টাও কোনো দিন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিন, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে সিএনজি নিয়েছিলেন তিনি। গন্তব্য ছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজ বাসা। রাত তখন প্রায় বারোটা বাজে।মাসে অন্তত ৮/৯ দিন তাঁকে এমন সময়েই কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে হয়। আর সহজ এবং নিরাপদ মনে করে তিনি অন্যান্য দিনের মতোই সিএনজিতে উঠেছিলেন।

কিন্তু হাতিরঝিলের নির্ঝন রাস্তায় উঠেই সিএনজি চালকে যেন কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছে বলে মনে হলো। সিএনজির গতি কমিয়ে দিয়ে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে কি যেন করছে। ভদ্রমহিলা লক্ষ করলেন, চালক লুকিং গ্লাসে বারবার তাকেই দেখছে। চালকের এক হাত স্টিয়ারিংয়ে, আরেক হাত লুঙ্গির নিচে। এ অবস্থায় একা একজন নারীর পক্ষে কি করার আছে, তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। ভয় আর আতঙ্কে আরষ্ট হয়ে কোনো রকমে বাড্ডার মেইনরোডে উঠেই সিএনজি থেকে নেমে গেয়ি হাফ ছেড়ে যেন বাঁচলেন।

ফেসবুকে এ ঘটনা শেয়ার করার পর দেখলাম, আরও অনেক নারীই তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মন্তব্যে শেয়ার করল। গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার রামুতে ঘটেছে আরও ভয়াবহ ঘটনা। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে গিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে এক তরুণী।

 এতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে ওই তরুণী মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে আট টায় রামুর মধ্যম মেরংলোয়া এলাকায় আরাকান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই তরুণীর নাম হ্লা নু প্রু চাক। তিনি পাবর্ত্য বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কাউচিং চাক এর মেয়ে বলে জানা গেছে। আহত তরুণীকে স্থানীয়রা মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আহত তরুণী হ্লা নু প্রু চাক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষে তার খালু উচাই হ্লা চাক এর সাথে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আটটার দিকে তারা রামু চৌমুহনী স্টেশনের নেমে সেখান থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি যাওয়ার জন্য একটি অটোরিক্সা ভাড়া করেন। এ সময় হ্লা নু প্রু চাক কে সিএনজি গাড়িতে রেখে পার্শ্ববর্তী দোকানে পান আনতে যান খালু উচাই হ্লা চাক। এরই ফাঁকে সিএনজি চালক ওই তরুণীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে দেন। খালুকে ছাড়াই গাড়ি চলতে থাকায় হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই তরুণী। একপর্যায়ে দ্রুতগামি গাড়িটি রামুর মেরংলোয়া এলাকায় একটি গতিরোধক (স্পিড বেকার) পার হওয়ার সময় নিজেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন হ্লা নু প্রু চাক। এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে খালি গাড়ি নিয়ে চালক চলে গেলে স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এমন ঘটনা হয়তো আরও অনেক আছে, যার সব কিছু হয়তো জানা যাবেও না। এর প্রতিকার নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলেই আমরা মনে করি।তাছাড়া, প্রতিকার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমাদের সতর্ক হয়ে চলাফেরা করা ছাড়া উপায় নেই। সব চালক নিশ্চয় এমন নন। কিন্তু কে ভালো আর কে অসৎ তা নির্ণয় করার তো কোনো উপায় নেই। তাই বিশেষ করে নারীদেরকে রাতের সিএনজি থেকে সাবধান হওয়াই ভালো।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য