রিনার পাশে বাংলাদেশ
October 18, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

রিনার পাশে বাংলাদেশ

হাসান শাহরিয়ার

গতকাল লিখেছিলাম- ভয় পেয়ো না রিনা, তোমার পাশেই আছে বাংলাদেশ। হ্যাঁ, সেটাই সত্যি হয়েছে। অনিশ্চয়তা কেটে গেছে আইরিন আক্তার রিনার। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণে অনেকে তাঁকে সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ তাঁর পড়ার পুরো ব্যয় বহনের জন্যও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। মা বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালান। আর সেই পরিবারেই পদ্মফুল হয়ে ফুটেছেন মেধাবী মেয়ে আইরিন আক্তার রিনা। এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অবাক এলাকার মানুষ। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু না, সময় এখন বাংলাদেশের। এ সময় রিনাদের মতো মেধাবীদের ঝড়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। সেটা আবারও প্রমাণ হলো। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেক দরদী মানুষ, পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে এমনই আরেক মেধাবী রাসেলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে বাংলাদেশ।পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েও টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল রায়হানুল বারী রাসেলের। গণমাধ্যম এমন খবরে রাসেলের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসেন চারঘাট-বাঘা আসনের এমপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ঘটনা জানতে পেরে, রাসেল ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রাসেলের ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহরিয়ার আলম।

রাসেলের পর গণমাধ্যমে খবর আসে আইরিন আক্তার রিনার। তারও একই অবস্থা। কিন্তু খবরটি যেহেতু একবার মিডিয়াতে এসেছে তাই, সাহস নিয়েই বলছিলাম, ভয় পেয়ো না রিনা, তোমার পাশেই আছে বাংলাদেশ। তোমার স্বপ্ন ও সাধনাও নস্যাৎ হতে দেওয়া হবে না। সেটাই সত্যি হয়েছে।

মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে দেখা দিয়েছিল ভর্তির শঙ্কা। সোমবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ১৫ হাজার এবং গাজীপুরের ইশরাত জাহান বৃষ্টি নামের একজন শিল্পী ২০ হাজার টাকা অদম্য মেধাবী আইরিনকে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনায়েত হোসেন বলেন, ‘শুধু ভর্তিতেই সমাধান নয়। আমি আইরিনের সব দায়িত্ব নিতে চাই। সে সুযোগ করে দেবেন আশা করি।’ এ ছাড়া আইরিনকে সহায়তার ব্যাপারে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক ফোন আসছে। সবাই ওই অদম্য মেধাবীর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণে হাত বাড়াতে চান।

আইরিনের মা বেলি বেগম বলেন, ‘খুব চিন্তায় ছিলাম। মনে হচ্ছিল মেয়েটার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। কিন্তু মানুষের এত ভালোবাসা পাচ্ছি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

বাড়ির কাছে বাগডোকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলেন আইরিন। এরপর সৈয়দপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজে পড়াশোনা করেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সরকারি কারিগরি কলেজে পড়ার সময় অভাবের কথা চিন্তা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর খরচ বহন করে। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চলতি মাসের ২০ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। ভর্তি হতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে শুনেছেন। কিন্তু এত টাকা তাঁর হতদরিদ্র মা-বাবার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব।

সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ আমির আলী আজাদ বলেন, ‘অনেক ফোন পাচ্ছি। অনেক প্রতিশ্রুতি। সবাই পাশে দাঁড়াতে চান। আইরিনের ভর্তিসহ তাঁর লেখাপড়ার খরচ নির্বাহে কত টাকা লাগবে সে অনুযায়ী সহায়তা নেওয়া হবে।’

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য