পর্নোগ্রাফি থেকে স্কুলগামী শিশুদের বাঁচান!!!

33
SHARE

 

ইউসুফ হায়দার 

বিশ্বজুড়ে পর্নোগ্রাফি এখন একটি মহামারী রোগ। নীতি-নৈতিকতাহীনতার চূড়ান্ত বাস্তবতা হিসেবেই পর্নোগ্রাফিকেই ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছে এক শ্রেণির রুচিহীন চরিত্রের মানুষ। এরা নিজের ধ্বংস তো হয়েছেই, সেই সাথে ধ্বংস করছে গোটা মানব জাতিকে। ইতিপূবে পর্নোগ্রাফি ছিল পশ্চিমাদের ব্যাপার সেপার। কিন্তু এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতেও। বাদ নেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশও।

এদেশে একটা সময় পর্নোগ্রাফির শিকার বা আসক্তিটা ছিল পূর্ণ বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এখন ডিজিটাল ডিভাইস তথা মালটিমিডিয়া মোবাইল ফোন সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় তা ছড়িয়ে পড়েছে যত্রতত্র।কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে বাদ নেই কোনো শ্রেণিই।প্রায় সকলের হাতের নাগালেই রয়েছে পর্নোগ্রাফি।আর রাজধানী ঢাকা শহর রয়েছে এ ক্ষেত্রে সব চেয়ে এগিয়ে।

এক পরিসংখ্যান দেখিয়ে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বলছে, ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি এই পর্ণোগ্রাফিগুলোতে যাদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তাদের বয়স ১৮এর কম

১ অক্টোবর শনিবারমানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জাতীয় প্রেসক্লাবে ‌‌‌‌‌বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি, সংবাদপত্র বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞ অভিমত উপস্থাপন করে

সংস্থাটির শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‌ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ ভাগ শিশু নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছে। তারা সুস্থ যৌন শিক্ষার বিপরীতে একটি বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সম্পর্কিত দুই শব্দের ওপর সংরক্ষণ দেওয়া আছে। কেউ ওই শব্দগুলো লিখেসার্চ দিলে সার্ভারে নোটিফিকেশন যায়। অনুমোদন ছাড়া ওই সব সাইটে ঢোকা যায় না। বাংলাদেশেও ধরনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণাটি বলছে, চারটি পদ্ধতিতে অশ্লীল ভিডিও তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পর্নোগ্রাফির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি পর্নো ভিডিও মানুষ বেশি দেখছে। এই ভিডিওগুলোতে ১৮ বছরের কম বয়সী স্কুলকলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে

এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া সিম নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ। তার অর্থ ১৮ বছরের নিচে মুঠোফোন ব্যবহার করতে হলে শিশুকে অভিভাবকের নামে নিবন্ধন করা সিম ব্যবহার করতে হবে। অভিভাবকেরা শিশুদের দামি মুঠোফোন, ট্যাব সেগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছেন, কিন্তু তারা কী কাজে এগুলো ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর করছেন না। এদিকে নজর দেওয়া জরুরি

সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় : মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মূলধারার ছয়টি দৈনিক পর্যালোচনা করে শিশু পরিস্থিতি তুলে ধরে।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা এখন পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালে সংবাদপত্রগুলোর খবর অনুযায়ী ৩৭৮টি দুর্ঘটনায় ৫১৭টি শিশু মারা গেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩২৫। সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে মূলত ঢাকা এর আশপাশের জেলাগুলোয়। অন্যদিকে, গত বছর পানিতে ডুবে মারা যায় ২৯৬ শিশু।

বছরজুড়ে শিশুদের নিয়ে শিক্ষাস্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা, অপহরণ, অপহরণের চেষ্টা, বাল্যবিবাহ, নির্যাতন ইত্যাদি খবর ছাপা হয়।

সত্যিই এটা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার জন্য একটি ভয়াবহ খবর। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মকে বিকৃত যৌনাচার থেকে বাঁচানো যাবে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ সকল কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি আশা করছি।একই সাথে বাবা-মাসহ সকল অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানকে ডিজিটাল ডিভাইস কিনে দেওয়ার আগে ভাবুন, আপনার নয়নের মনি সন্তানটির আসলেই সেটির প্রয়োজন আছে কিনা? আর প্রয়োজন থাকলেও সে সেটি শুধু প্রয়োজনের জন্যই চাইছে নাকি, এর সুবিধার অপব্যবহার করছে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

আপনার মন্তব্য