জঙ্গি আতঙ্ক

22
SHARE

গাজীপুরের দুটি পৃথক ‘আস্তানায়’ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের অভিযানে নয় ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।শনিবার সকাল ও বিকেলে এ দুটি অভিযান চালানো হয়। দুটি স্থানের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। পুলিশ দাবি করেছে, এ অভিযানে নব্য জেএমবির প্রধান আকাশ নিহত হয়েছে।
একই দিন টাঙ্গাইলেও আরেকটি অভিযানে আরো দুই ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই দিনে পাশাপাশি দুই জেলার তিনটি স্থানে অভিযানে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহতের ঘটনা ঘটল।
গত কয়েক দিন প্রায় চুপ থাকার পর শনিবারের ঘটনায় আবারও জঙ্গি আতঙ্ক ঘিরে ধরছে দেশবাসীকে। আর দেশে একই দিনে ১১ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনাও এই প্রথম। ফলে সাধারণ মানুষের মনে ‘জঙ্গি’ আতঙ্ক বাড়ছেই।আর এ ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন ইংল্যান্ড দেশে এসেছে ক্রিকেট খেলতে।যারা কিনা জঙ্গি আতঙ্কের কারণেই এসময় বাংলাদেশে আসবে কি আাসবে না তা নিয়ে বেশ দিধা দ্বন্দ্বে ভুগছিল।
এখন তারা বাংলাদেশে আসার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনায় ইংল্যান্ড দলের মনোভাবে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা কে জানে?

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাজীপুরের সদর উপজেলার হারিনাল পাতারটেক এলাকা। দোতলা একটি বাড়ি। শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেঁড়েছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করে।
জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, ঘেরাওয়ের পর নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল ওই বাড়িতে জঙ্গি সদস্যরা সেখানে আছে কি না। পরে ডিবির সদস্যরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন। নিশ্চিত হওয়ার পরই পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াতকে খবর দেওয়া হয়। সোয়াতের সঙ্গে যোগ দেয় গাজীপুর জেলা পুলিশ।
অভিযান শুরুর আগে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার জন্য বলা হয়। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর সোয়াতের দল বাড়িটিতে প্রবেশ করে। ভেতরে পাওয়া যায় সাত ‘জঙ্গি’র লাশ।
বাড়ির মালিকের তথ্য মতে, চারজন সদস্য এ বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকত। বাকি তিনজন পরে এসে যোগ দেয়। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, নিহতদের একজন আকাশ। যিনি নব্য জেএমবির নেতা।
বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, অভিযান সফল হয়েছে। এর ফলে নব্য জেএমবির শক্তি খর্ব হয়েছে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরে একই কায়দায় জঙ্গিদের হত্যা করেছে পুলিশ। এবং সেসব স্থানেও জঙ্গিদের শীর্ষনেতাদের থাকার কথাও নিশ্চিত করেছিল পুলিশ। শনিবারের ঘটনাতেও এক শীর্ষ নেতা আকাশ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য সঠিক হলে তো বিষয়টি ভয়াবহ আতঙ্কের বলেই মনে হচ্ছে। কেননা, এত জঙ্গি এদেশে এলো কোথা থেকে? আরও কত লুকিয়ে আছে, কে জানে?

আপনার মন্তব্য