পোশাক শিল্পে আসছে নতুন খবর

47
SHARE

হাসান শাহরিয়ার

প্রথমআলোতে পড়লাম, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি খবর। তৈরি পোশাক উৎপাদন রপ্তানিতে বিশ্বের এক নম্বরে থাকা চীন ধীরে ধীরে নিজেদের এই ব্যবসা গোটাচ্ছে। অনেক দিন ধরেই কথাটি শোনা যাচ্ছিল। সেটি হয়তো বাস্তব হতে চলেছে এখন। তার প্রমাণ হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমছে।আর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীনের সেই ব্যবসা আসছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে।

তবে এই মুহুর্তে চীনের গোটানো ব্যবসার বড় অংশ যাচ্ছে ভিয়েতনামে। তারপর আসছে বাংলাদেশে। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৭২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধি শতাংশ।

অন্যদিকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল, তার মধ্যে দশমিক ৩৪ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারিআগস্ট) সেটি বেড়ে দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার বেড়েছে দশমিক ২৩ শতাংশ। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এমনটা জানা গেছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার ৪০৬ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছে। বাংলাদেশের মুদ্রায় হিসাব করলে দাঁড়ায় লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬১৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের চেয়েও এই অর্থ অনেক বেশি। জাতীয় সংসদে গত জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। তার মানে বাজার হিস্যা দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধির সংখ্যাটি ক্ষুদ্র মনে করার কোনো কারণ নেই। টাকার অঙ্কে তা ৯৯৫ কোটি (১২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার)

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে চীন। পরের শীর্ষ চার অবস্থানে আছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ভারত।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্বে ৪৮৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাকের ব্যবসা হয়। তবে গত বছর সেটি কমে ৪৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তার মানে পোশাকের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে। জন্য চীনসহ অনেক দেশেরই পোশাক রপ্তানি কিন্তু কমে যায়। তবে আশার কথা, বাংলাদেশে কমেনি।

চীন প্রসঙ্গে ফারুক হাসান বলেন, ‘চীনা উদ্যোক্তারা পোশাক ব্যবসা থেকে সরে বস্ত্রকলের দিকে ঝুঁকছে। ফলে তাদের পোশাকের ব্যবসা অন্য দেশে যাবে। সেই ব্যবসার বড় অংশ নিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশে বেশ কিছু ভালো মানের কারখানা হচ্ছে। ছাড়া ক্রেতাদের জোটঅ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের অধীনে পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হচ্ছে। আশা করছি, আসছে বছর থেকে আমাদের পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে।তিনি আরও বলেন, চীনের ব্যবসা যে বাংলাদেশে আসছে, আগামী বছর থেকে সেটি আরও প্রতীয়মান হবে

তাছাড়া, শ্রম মূল্য বেড়ে যাওয়াও চীনের তৈরি পোশাক কারখানা চালানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে বলেও জানা গেছে। আর সে কারণেই তারা অন্যান্য শিল্পের দিকে দাবিত হচ্ছে। আর শ্রমঘন শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পকে তারা অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন চীনা ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় যে ব্যবসায়ী টিম এসেছিল, তাদেরও একটি উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানা করা যায় কিনা সেটার সম্ভাব্যতা দেখেছেন বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে এখন একটি টার্নিং মুহুর্ত যাচ্ছে। এই সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তৈরি পোশাক শিল্প দিয়েই এদেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করা সম্ভব।  

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য