ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলোর প্রয়োজন কি?

52
SHARE

ইউসুফ হায়দার 

রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দর নগরী চট্টগ্রামের রাস্তায় যারা আমরা চলাচল করি তাদের কারো কি এমন অভিজ্ঞতা আছে যে, ট্রাফিক সিগ্যাল বাতির আলো দেখে রাস্তার মোড়গুলো পার হতে পেরেছেন? এমন কোনো সৌভাগ্যবান থাকলেও থাকতে পারেন কিন্তু আমি কোনো দিনই সেটা পারিনি। লাল বাতি জ্বলুক কিংবা সবুজ বাতি ট্রাফিক পুলিশের ইশারা না পেলে কেউ যেমন দাঁড়ায় না, তেমনি চলতেও পারে না।

এই যখন বাস্তবতা, তখন তো প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে, তাহলে বাতিগুলোর প্রয়োজন কি? ট্রাফিক পুলিশ, পথচারী কিংবা গাড়ি চালক কারো কাছেই এগুলো এখন আর কোনো ফ্যাক্টর নয়। সবই চলে হাতের ইশারা উপর। ঢাকার কি অবস্থা জানি না তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে সেই অপ্রয়োজনী বাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)

খবরের বিবরণে জানা যায়, ২০১৫১৬ অর্থবছরে বন্দর নগরীর ৪৪টি সিগনাল বাতি মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২০ লাখ টাকা ব্যয় দেখায় চসিক। আর গত ১৬ বছরে খাতে ব্যয় দেখিয়েছে কোটি ৯০ লাখ টাকাচসিকের চলতি অর্থবছরের বাজেটেও খাতে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রাস্তায় বাতি থাকলেও তার ব্যবহারে প্রয়োজন মনে করেন না ট্রাফিক পুলিশ, অন্যদিকে প্রয়োজন না থাকলেও কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সিটি কর্পোরেশন। আর সেটা নিয়ে উভয় পক্ষের মন্তব্য শুনলেও অবাক লাগে। কেননা, এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, সিগন্যাল বাতিগুলো ট্রাফিক পুলিশ ব্যবহার করে না বলে অচল হয়ে আছে।

পুলিশ সিগন্যাল বাতি ব্যবহার করে না, এমন বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ উল হাসান জানিয়েছেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। কিন্তু সিগন্যাল বাতির নিয়ন্ত্রণ কখনো ট্রাফিক পুলিশের হাতে ছিল না। এছাড়া সিগন্যাল বাতিগুলোর সময় নির্ধারণ নিয়েও সমস্যা রয়েছে, যার কারণে লাইটগুলো ব্যবহার হয়নি

আচ্ছা এই যখন অবস্থা, তখন রক্ষনাবেক্ষণ এবং বাতিগুলো জ্বালানোর জন্য বিদ্যুতের খরচগুলো আমরা কেন করছি?

আপনার মন্তব্য