অধিক জনসংখ্যা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ
November 21, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

অধিক জনসংখ্যা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ

ইউসুফ হায়দার

আমাদের মতো ক্ষুদ্র আয়তনের দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করছি। সীমিত আয়তন ও সম্পদ দিয়ে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সকল চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যাবে তা আমাদের কর্তাব্যক্তিদের জন্য সব সময়ই চিন্তার বিষয়। সে কারণেই জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে একটা সীমিত মাত্রায় নামিয়ে আনতে জন্মনিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে দেশজুড়ে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমে শুধু আমাদের সরকার নয়, এর সাথে জাতিসংঘের সম্পৃক্তি ও সহায়তাও আছে। তারপরও আমাদের দেশে এখনও প্রতি মিনিটে চারজন করে মানুষ বাড়ছে বলে এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে। সেটাকে আরও কমিয়ে আনার জন্য এখন জোর প্রচেষ্টা চলছে।

দেশি-বিদেশি সমন্বিত এই উদ্যোগের তোড়জোর দেখে যে কারোরই ধারণা হবে যে, অধিক জনসংখ্যা অবশ্যই অভিশাপ, তা না হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এত আয়োজনের প্রয়োজন কি?

তবে এটাও সত্য যে, উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আবার ভিন্ন চিন্তাও আসে। সম্প্রতি তেমনই একটি খবর আমাদের আবার ভাবনায় ফেলেছে যে, অধিক জনসংখ্যা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? খবরে বলা হয়েছে, ইতালির আসিসি শহরের কিছু হোটেল দম্পতিদের জন্য বিনামূল্যে ছুটি কাটানোর ব্যবস্থা করছে। তবে শর্ত হিসেবে হোটেলগুলোতে থাকার সময় তাদের গর্ভধারণ করতে হবে। স্থানীয় পর্যটন কাউন্সিলের উদ্যোগে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এর কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশটির জন্মহার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যাওয়ায় দম্পতিদের কাছে এই প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। এই হোটেলগুলোতে থাকার নয় মাস পর যদি তারা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন তাহলে তাদের জন্য বিনামূল্যে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে নতুবা পূর্বের অবস্থানকালীন অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

শুধু ইতালির কথাই-বা কেন বলি, ইউরোপের অনেক দেশই আজ জনসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে। শিল্পোন্নত দেশ জাপানের অবস্থাও করুণ। সেখানে সন্তান জন্মদানের ঘটনা এতটাই কমে গেছে যে ভবিষ্যতে দেশটি প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলেই ধারণা করছে জাপান সরকার। তাই কিছু দিন আগে সেদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ-তরুণীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, শুধু কাজের মধ্যে ডুবে না থেকে তারা যেন বিয়ে সংসার নিয়েও কিছুটা সময় ভাবেন।

যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উদ্ভাস্তু হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার পর জার্মান তাদের অনেককেই আশ্রয় দিয়েছে। মানবিক কারণ ছাড়াও এর পেছনেও আছে সেই জনসংখ্যা কমে যাওয়া। জার্মানের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার এখন এতটা নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে যে, ভবিষ্যতে উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তির অভাবে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে দেশটি।

এসব কারণেই ভাবছি, অধিক জনসংখ্যা আমাদের জন্য আসলে আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য