উবার বন্ধ করাটা কি খুব জরুরি ছিল
November 26, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

উবার বন্ধ করাটা কি খুব জরুরি ছিল

সোহেল হাবিব

রাজধানী ঢাকায় সদ্য চালু হওয়া অ্যাপনির্ভর কার সেবা ‘উবার’-কে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) অবৈধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএ দ্রুতগতিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অনেকেই বিষয়টিকে সন্দেহের চোখেও দেখতে শুরু করেছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে কোনও পক্ষকে বিশেষ সুযোগ করে দেওয়া হলো কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনাকারীরা বিআরটিএকে দুষছেন এই বলে যে, সিএনজি চালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য না কমিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে চালু হওয়া সাশ্রয়ী বাহন উবারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমানে চালু থাকা বিআরটিএ অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্সি ক্যাবের প্রথম ২ কিলো ৮৫ টাকা, পরের প্রতি কিলো ৩৪ টাকা, প্রতি মিনিট ওয়েটিং চার্জ ৪.২৫ টাকা। আবার ফোন দিয়ে বুকিং দিলে ২০ টাকা এক্সট্রা দিতে হয়। সেখানে উবার ট্যাক্সি সার্ভিসে মিনিমাম চার্জ ৫০ টাকা, এর পর প্রতি কিলো ১৮ টাকা, প্রতি মিনিট ওয়েটিং চার্জ ২ টাকা, এবং বুকিং দেওয়ার জন্য এক্সট্রা কোন ফি নেই। এখন আমি কার সার্ভিস নিবো? স্বাভাবিকভাবেই আমি আমার জন্য সাশ্রয়ী সার্ভিসটা নেব। সেকারণেই উবার চালু হওয়ার পর অনেকেই আশান্বিত হয়েছিলেন যে, এবার হয়তো সিএনজি-টেক্সিক্যাব চালকদের দৌড়াত্ম্য কিছুটা হলেও কমে আসবে।

বিআরটিএ সিএনজি-টেক্সিক্যাব চালকদের দৌড়াত্ম্য বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলেও উবার চালু হওয়ার পর পর দ্রুত গতিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু উবার হলো অ্যাপভিত্তিক একটি ট্যাক্সি ক্যাব সেবা। যাত্রীরা তাদের স্মার্টফোনে গুগল প্লে থেকে উবার অ্যাপ ডাউনলোড করে ডাকতে পারবেন ট্যাক্সি। উবার ট্যাক্সি সার্ভিস হলেও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনও গাড়ি নেই। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও চালককে উবারে নিবন্ধন করে যাত্রীসেবা সার্ভিস চালু করে। এই গাড়ি ও যাত্রীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দিয়ে উবার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন বা সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে গাড়ির মালিকের কাছ থেকে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের অলিতে-গলিতে রেন্ট-এ কারের দোকান বা অফিস চোখে পড়ে, এগুলোর কয়টি বিআরটিএ-র অনুমোদন চলছে? মনে হয়, একটারও সে অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। তাহলে উবারের জন্য কেন প্রয়োজন হবে?

যাইহোক, এ প্রসঙ্গে বেসিসের সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় বিআরটিএ ট্যাক্সি ক্যাব সার্ভিসের জন্য একটা বিধিবিধান মেনে চলে।মনে হয়, সেই বিধিবিধানের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমি বিআরটিএ-কে এই মনোভাব থেকে সরে এসে জনগণের সেবার মনোভাবের প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাই।’

আমরাও জনাব মোস্তফা জব্বারের সাথে সহমত পোষণ করি। কেননা, সবার আগে জনগণের সেবা; আর বিআরটিএ কিংবা বিধিমালা সবকিছুই করা হয়েছে জনগণের সেবার জন্য, দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য নয়।

আপনার মন্তব্য