এটিএম বুথ থেকেও ছড়াচ্ছে রোগ!
November 21, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

এটিএম বুথ থেকেও ছড়াচ্ছে রোগ!

এটিএম বুথ থেকে আমরা কী সেবা পেয়ে থাকি? সহজে টাকা লেনদেনের সুযোগ পেয়ে থাকি, তাই না? কিন্তু এবার মার্কিন এক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে যে, এটিএম থেকে আমরা শুধু টাকাই লেনদেন করছি না, বরং নিজেদের অজান্তেই বিভিন্ন রোগের জীবাণুও লেনদেন করছি!

সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর জানা গেছে, এটিএমের কিপ্যাড আসলে জীবাণুদের আস্তানা! নানা উৎস থেকে এসে জীবাণুরা বাসা বাঁধে এটিএম কি প্যাডে। ওখানে বাসা বাঁধার মূল কারণ তাদের পরিবাহক অর্থাৎ মানুষের সংস্পর্শের সহজলভ্যতা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অনুকূল পরিবেশ। ফলে বায়ু বা প্রাণীবাহিত জীবাণুরা সহজেই কি প্যাডের ওপর বাসা বাঁধে এবং পরিবাহকের মধ্য দিয়ে দ্রুত বিভিন্ন দেহে স্থানান্তরে সক্ষম হয়

ব্যাংকগুলোতে টাকা লেনদেনের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমাও। তার আগে-পরে আপনি চাইলেও সেখান থেকে টাকা উঠাতে পারবেন না। তাছাড়া, রাত-বিরাতে টাকার প্রয়োজন হলে ব্যাংক থেকে তা তোলার কোনো উপায় নেই। তাই যখন-তখন লেনদেনের জন্য আজকাল ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে না থেকে বরং সহজ উপায় হিসেবে মানুষ বেছে নিচ্ছেন এটিএম ‍বুথকে।

কিন্তু প্রযুক্তির আশীর্বাদ হিসেবে এটি যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করছে। তেমনি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। আগে দেখা যেত নানা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারক চক্র গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণার পর শোনা যাচ্ছে রোগজীবাণু ছড়ানোরও ভয়াবহ খবর।

এটিএম বুথে যারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। ফলে তাদের শরীর থেকে এটিএম বুথে জীবাণু এটিএম-র প্যাডে লেগে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। আবার কোনো সুস্থ মানুষ যখন একই প্যাডের কীগুলোতে আঙ্গুলের স্পর্শ্স করছেন, তখন তাদের হাতেও লেগে যাচ্ছে সেসব রোগের জীবাণু। ফলে তারাও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমস্ফিয়ার’  নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাভিত্তিক সাময়িকীর বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে,  যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের এটিএম ব্যবহারকারীদের ওপর গবেষণা চালিয়ে জানা গেছে, এটিএম মেশিন থেকে ছড়াচ্ছে যৌনরোগের মতো ভয়াবহ ব্যাধিও।


২০১৪ সালের জুন এবং জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন, কুইন্স এবং ব্রুকলিনের ৬৬টি এটিএম মেশিনের কীপ্যাডে পাওয়া জীবাণুর নমুনা নিয়ে এই গবেষণাটি করা হয়।

অতএব, এটিএম থেকে সাবধান। যে কোনো সময় এটিএম বুথ থেকে বের হয়ে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। তাতে হয়তো রোগজীবাণুর সংক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও বাঁচা যাবে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য