এম আর খান শুধু ডাক্তার না, ছিলেন তার চেয়েও বেশি কিছু
November 6, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

এম আর খান শুধু ডাক্তার না, ছিলেন তার চেয়েও বেশি কিছু

ইশতিয়াক আাহমেদ :

জাতীয় অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আর খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৫ নভেম্বর শনিবার বিকেল চারটা ২৫ মিনিটে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ডা. এম আর খান বাংলাদেশের শিশুচিকিৎসার পথিকৃৎ। তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুরে। ১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিটিএমঅ্যান্ডএইচ, এমআরসিপি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিএইচ, ঢাকার পিজি থেকে এফসিপিএস, ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন।

একজন চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার এম আর খানের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আজকাল ডাক্তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে ডাক্তার নামের কতিপয় মানুষের অতিরিক্ত অর্থ লোভের কারণে।কিন্তু এসবের ভিড়ে যে কয়জন চিকিৎসক মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে এদেশের মানুষের কাছে মহান হয়ে আছেন তার মধ্যে ডাক্তার এম আর খানের নাম অভিস্মরনীয় হয়ে থাকবে।
শুধু কি তাই, একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে এদেশের ভাষাআন্দোলনের স্মৃতি ঐতিহাসিক সেই আমতলার কথা নিশ্চয় আমাদের মনে আছে। আর সেই আমগাছটি এখনো রক্ষিত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এই গাছটি এক সময় বিক্রি হয়েগিয়েছিল। কিন্তু এটির বিক্রি ঠেকিয়েছিলেন ডাক্তার এম আর খান। তাঁর একজন ছাত্র আরিফুর রহমান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন-

“ঢাকা মেডিকেল কলেজের এনাটমির শিক্ষক কাশেম স্যার সত্তুরের দশকে আমরা যখন ছাত্র, একদিন আমাকে ডেকে গোপনে বললেন ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আমতলার আম গাছটি প্রফেসর ‘অমুক’ নিলামে কিনে নিয়েছেন,– ইতিহাস বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

গোপন খবর পেয়ে এখন মরহুম আমাদের সেই স্যারকে ধরলাম, তিনি তখন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্চ্ছিলেন। আমি, সাদেক আরো কজন ছাত্র নেতার চেহারার উষ্ণতা দেখেই অতি মেধাবী আমাদের স্যার বললেন, বুঝেছি তোমরা কেন এসেছো, — কোনো আলাপের দরকার নেই। গাছটির সাথে বাংলার ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমি জানতাম না। সুপারিটেন্ডেন্টকে বলবো আমার টাকা ফেরত দিতে, নিলাম বাতিল করতে। ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী আম্রতলা হারিয়ে যেত যদি কাশেম স্যার ঐদিনই সময়মত খবরটা না দিতেন। করাত নিয়ে কাঠুরেরা এসে গিয়েছিলো আম গাছটি কাটবে বলে।”

ডা. এম আর খান তাঁর নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান।

ডা. এম আর খান দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন, কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘আধূনিক’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। প্রতিষ্ঠানতুল্য এই মানুষটির জীবনী স্থান পেয়েছে কেমব্রিজ থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল হু ইজ হু অব ইন্টেলেকচুয়াল-এ। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ম্যানিলা অ্যাওয়ার্ড, একুশে পদকসহ আরও অনেক পুরস্কার।

আপনার মন্তব্য