কার প্রশিক্ষণ কে নেয়?
November 4, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

কার প্রশিক্ষণ কে নেয়?

সোহেল হাবিব :

দৈনিক কালেরকণ্ঠেরশিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রকল্পে শিক্ষকরাই নেই!’ শিরোনামের একটি খবর পড়লাম। খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক কর্মকর্তা গত মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং শেষ করেছেন। তিনি ভিসা পেয়েই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তাতে লিখেছিলেন, ‘মাই গট ভিসা।অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘আমি ভিসা পেয়েছি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে কর্মকর্তাআমি ভিসা পেয়েছির ইংরেজিই লিখতে পারেন না; তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন! তিনি তো অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন ধরনের ইংরেজি কথা ধরতেই পারেননি, বোঝা তো দূরের কথা!’

শুধু এই কর্মকর্তাই নন, গত মাসে ইউজিসির হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণে যাওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৩২ জনই ছিলেন জুনিয়র কর্মকর্তা। বিদেশে প্রশিক্ষণের শর্ত পূরণ না করেই তাঁরা সুযোগ পান। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার উন্নয়নে কোনোভাবেই কাজে আসছে না বলে জানিয়েছে ইউজিসির এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

খবরটি পড়তে গিয়ে মনে পড়ল নিজের একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা। কয়েক বছর আগে, একবার সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট এক সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে এক দিনের প্রশিক্ষণে অংশনিয়েছিলাম।প্রশিক্ষণে গিয়ে দেখলাম আমি সহ সব মিলিয় উপস্থিত আছেন ৩৭ জন। প্রশিক্ষক উদ্বোধন করতে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মহোদয়।

সচিব মহোদয় উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করে উপস্থিত সকলের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানালেন। একে একে দাঁড়িয়ে সবাই পরিচয় দিচ্ছেন, একি ব্যাপার? সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কিন্তু উপস্থিত যারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীকর্মকর্তা! গুণে দেখলাম, ৩৭জনেরমধ্যেশেষপর্যন্তসাংবাদিকপাওয়াগেল১১জন।

বিষয়টি সচিব মহোদয়কেও পিড়ীত করল। তিনি জানতে চাইলেন প্রশিক্ষণ শিবির অ্যারেঞ্জের দায়িত্ব কার ওপর ছিল? আর সাংবাদিকদের জন্য আয়োচিত প্রশিক্ষণে এই সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীরা দাওয়াতইবা পেল কী করে? তাছাড়া অফিস বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণে আসতে হলে তো লিখিত অনুমোতিও নিয়ে আসতে হয়, এমন অনুমোতি পত্র কয়জনের আছে? সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ আপনারা গ্রহণ করেইবা কী করবেন? উপস্থিত সবাই চুপ, কেউযেনকোনোকথাবলতেপারছিলেননা।

যাহোক, সচিব সাহেব নিজের মতো রাগ ঝাড়লেন, আয়োজক এবং প্রশিক্ষণ নিতে আসা সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের ওপর। তাপর সাবধান করলেন ভবিষ্যতে যাতে এমনটি আর না হয়।

পরে বুঝেছিলাম এর পেছনের গোপন মাহাত্ম্য। এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিলে আসাযাওয়ার ভাড়াবাবদ কিছু টাকা সম্মানী হিসেবে পাওয়া যায়। তাছাড়া, ব্যাগ, ডায়রী, প্যাডএই জাতীয় কিছু উপহার সামগ্রীও থাকে। সম্ভবত এসবের জন্যই অফিস ফেলে তাদের আসা। 

আচ্ছা এই যখন অবস্থা তখন, বিদেশ প্রশিক্ষণের সুযোগটা কেন তারা অন্যদের দিতে যাবেন?

আপনার মন্তব্য