কিয়ামতের আলামত
November 9, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

কিয়ামতের আলামত

 

 আমাদের উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। গ্রিন কার্ড পাওয়া না গেলেও অন্তত কয়েক বছরের ভিসা পেলেও ধন্য হয়ে যান অনেকেই। কেননা আমেরিকা আইনের শাসন, সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বলতে গেলে অতুলনীয়। তাছাড়া বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির অধিকারী হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নিরাপত্তাও যথেষ্ঠ নিশ্চিত। তাই অনেকের কাছেই যুক্তরাষ্ট্র স্বপ্নের দেশ। কিন্তু সেই স্বপ্নের দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পথ খুঁজছে এখন মার্কিনিরা।

রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় নিশ্চিৎ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বের কোন কোন দেশে অভিবাসী হওয়া যায় তারই সন্ধানে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। ভিন্ন দেশে বসবাসের উপায় নিয়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজতে শুরু করেছেন দেশটির নাগরিকরা। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে গিয়ে ‘এমিগ্রেট’, ‘হাউ টু এমিগ্রেট টু কানাডা’ ইত্যাদি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকরা অনুসন্ধান করছেন। বিশেষ করে কানাডার ইমিগ্রেশন সাইটে এত বিপুল সংখ্যক আমেরিকান হিট করছেন যে চাপ সামলাতে না পেরে সাইটই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

শুধু কানাডার ইমিগ্রেশন সাইট নয়, বরং প্রভাব পড়ছে গুগলের উপরেও। বলতে গেলে এসব ‘কি ওয়ার্ড’ দিয়ে বিপুল সংখ্যক মার্কিনি নাগরিকের সার্চ করার কারণে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিস্ফোরণের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। আর ব্যাটেল গ্রাউন্ড তথা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় টাম্প জয় পাওয়ার পরপরই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। আরও অবাক করার মতো ঘটনা হলো গুগলে অনুসন্ধানকারীদের মধ্যে বিশালসংখ্যক ‘বিশ্বের সমাপ্ত’ (এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড) লিখেও খুঁজছেন।

তার মানে হলো তারা ট্রাম্পের বিজয়কে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যকর ভাবছেন না, বরং তারা মনে করছেন এটা কিয়ামত তথা পৃথিবী ধ্বংসের আলামতও।

বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাঁক-ডাক শুরু হয়েছে। রাশিয়া তার দেশের অধিকাংশ নাগরিকদের নিয়ে ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তা থেকে নিজেদের রক্ষার কৌশল শিখাতে মহড়াও দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলো পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। আর সব কিছুর পেছনে রয়েছে ইসরাইলের মতো একটি বিষফোঁড়া। এদের ষড়যন্ত্রের কারণে যে কোনো সময় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়ে যেতে পারে।

এমতাবস্থায় বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী দেশ আমেরিকার জন্য প্রয়োজন ছিল তীক্ষ্ন কূটনৈতিক মেধা সম্পন্ন কমান্ডার। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ক্ষেপাটে ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি কিনা পারমাণবিক অস্ত্রগুলোকে কেন বসিয়ে রাখা হয়েছে- এমন অপরিক্ব মন্তব্যও করেছিলেন। তার মানে হলো প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ব্যাটল গ্রাউন্ডগুলোতে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রও প্রয়োগ করতে চান।

তেমনটি যদি সত্যিই ঘটে তাহলে তৃতীয় বিশ্বযু্দ্ধকে ঠেকানোর আর কোনো উপায় থাকবে না। সে কারণেই হয়তো হতাশ মার্কিনিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্যে কেয়ামত তথা বিশ্ব ধ্বংস হওয়ার আলামতই দেখতে পাচ্ছেন!

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য