কে জিতবেন হিলারি নাকি ট্রাম্প?
November 7, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

কে জিতবেন হিলারি নাকি ট্রাম্প?

ইউসুফ হায়দার

রিপাবলিকান প্রার্থী ক্ষেপাটে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে পারেন এমন সম্ভাবনা খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না কেউ। কিন্তু তার পরও কথা থেকে যায়। শেষ মুহুর্তে এসে হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির নিয়ে এফবিআই তদন্ত করতে যাচ্ছে এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগও আনা হতে পারে- এমন খবর প্রচারের পর অবস্থা পাল্টে যেতে শুরু করেছিল। যদিও সে অবস্থাটা স্থায়ী হয়নি।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া প্রায় ৩০০ জনমত জরিপের ভিত্তিতে যে মডেল নির্মাণ করেছে, তাতে ইলেক্টরাল কলেজ ভোটের হিসাবে হিলারি ক্লিনটনের বিজয়ের সম্ভাবনা ৭৬ শতাংশ। কিন্তু তার মানে এই নয়, ট্রাম্পের পক্ষে জেতা অসম্ভব।

কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলো মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। একভাগে আছে রিপাবলিকান সমর্থক রাজ্যগুলো, যেগুলোকে ‘লাল’ চিহ্নিত রাজ্য বলে ধরা হয়। অপর ভাগে আছে ডেমোক্র্যাট সর্মথক রাজ্য, সেসব চিহ্নিত ‘নীল’ রাজ্য হিসেবে। তৃতীয় ভাগে আছে না লাল-না নীল তথা ‘পাটকেলে’র দলে। এরাই মূলত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল ভূমিকাটা পালন করে থাকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হিসাব করে দেখেছেন, তিনি যদি শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের খুব বড় সংখ্যাকে নিজের পক্ষে টানতে পারেনতাহলে ফ্লোরিডা, ওহাইও ভার্জিনিয়ার মতো না নীলনা লাল রাজ্যগুলোতে জেতা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হবে না কিন্তু জন্য তাঁকে এই রাজ্যগুলোর তিনচতুর্থাংশ শ্বেতাঙ্গ ভোট পেতে হবে শুধু তা নয়, মোট শ্বেতাঙ্গ ভোটারের তিনচতুর্থাংশ যাতে ঘরে বসে না থেকে নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে রোনাল্ড রিগ্যানের পক্ষে সে অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করা গিয়েছিল ট্রাম্প তেমন একটা ম্যাজিকের অপেক্ষায় আছেন

কিছু বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলি যাব্লু স্টেটবা ডেমোক্রেটদের সমর্থনপুষ্ট রাজ্য হিসেবে পরিচিত। মিশিগান, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া (উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্য) এবং উইসকনসিন ঐতিহ্যগতভাবেই ডেমোক্রেটদের রাজ্য। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে প্রতিটি রাজ্যই রিপাবলিকান গভর্নর নির্বাচিত করেছে। তাই এখানে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার বিষয়।

তাছাড়া, হিলারি ক্লিনটন যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে ২৪০ বছরের পুরুষশাসিত যুক্তরাষ্ট্রের অবসান ঘটবে। একজন নারী রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে থাকবেন, আধুনিক যুগেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেকের কাছেই তা হজম করা কঠিন। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মনে এই ভীতি উঁকি দিতে পারে। তাই ভোটের দিন তারা কী করবেন কে জানে?

অপরদিকে ডেমোক্রেট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স যিনি প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের লড়াইয়ে হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তার সমর্থকরা ‍হিলারির পক্ষে আগামীকাল ভোট কেন্দ্রে যেতে কতটা ইচ্ছুক হবেন সেটাও দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও হিলারির পাল্লা যে ভারী তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যা হবে তা তো বিশ্ববাসী দেখতে পাবে আর একদিন পরেই।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য