তুরাগকে বাঁচতে দিন
November 10, 2016
Bangladeshism Desk (754 articles)
Share

তুরাগকে বাঁচতে দিন

হাসান শাহরিয়ার 

রাজধনী ঢাকার প্রাণ হিসেবে যে চারটি নদী আছে তার মধ্যে তুরাগ অন্যতম। কিন্তু নগর সম্প্রসারণের কারণে একশ্রেণির মানুষ এই তুরাগ নদীকে মেরে ফেলছে। তারা নদী দখল করে ভরাট করছে, ময়লা ফেলছে, খুঁটি দিয়ে ঘর কিংবা নানা স্থাপনা তুলছে। নদী দখলকারীরা মৃতপ্রায় তুরাগের কান্নার ধ্বনি শুনতে না পেলেও শুনেছে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ।

তাই তারা নদী ভরাটের বিরুদ্ধে আদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিল। রিটের শোনানি করে তুরাগ নদীতে মাটি ভরাট, দখল ও নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

খবরে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, ওয়াপদা ও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং টঙ্গী ও তুরাগ থানার ওসিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই আদেশ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা ২৭ নভেম্বরের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভরাটের সাথে জড়িতদের নামের একটি তালিকাও তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে গাজীপুর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসব আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি নদী ভরাট বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত। নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কেন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং যেটুকু ভরাট ও নির্মাণ কাজ করা হয়েছে তা ভরাটকারীদের নিজ খরচে অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে নৌ-সচিব, অভন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক এর চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, টঙ্গীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বিভিন্ন অংশে তুরাগ নদী ভরাটের মাধ্যমে স্থাপনা নির্মাণের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনকে সংযুক্ত করে গত ৭ নভেম্বর পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ এর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ একটি রিট দায়ের করেন। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ ও রুল জারি করেছেন।

দুঃখজনক ঘটনা হলো ৬ নভেম্বর ইংরেজি দৈনিকে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের বহু পূর্ব থেকেই তুরাগ নদীতে ভরাট চলছে। আর এটা চলছে প্রকাশ্যেই কিন্তু প্রশাসনের কোনো পর্যায় থেকে তা বন্ধ করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না। ফলে দিনে দিনে রূপ-যৌবন হারিয়ে তুরাগ এখন মৃতপ্রায়। উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর কী ঘটবে জানি না।

কেননা, এর আগে ২০১৪ সালে আগস্ট মাসে তুরাগ ও বালু নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে সে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে বলে শোনা যায় না। যদি সেই রায়টি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আজ আবার নতুন করে নদী ভরাট বন্ধে হাইকোর্টকে আদেশ দিতে হতো না।

তাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমাদের আহ্বান, তুরাগসহ রাজধানীর পাশ্ববর্তী সকল নদীকে বাঁচান। আপনাদের, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যে সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন তাতে এসব নদীর খুব প্রয়োজন রয়েছে। প্লিজ, তুরাগকে বাঁচতে দিন।

আপনার মন্তব্য