পরিবেশ উন্নয়নে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি
November 13, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

পরিবেশ উন্নয়নে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি

একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষুদ্র আয়তন এবং জনবহুল দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ কমছে। বর্তমানে এদেশের বনভূমির পরিমাণ ৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবেই কম।

এ কারণেই বেশ কিছু দিন ধরে সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি বনভূমির পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে অংশীদারীর ভিত্তিতে সামাজিক বনভূমি সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয়দের আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ারও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এমনই একটি উদ্যোগে সফলতা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশবিষয়ক পুরস্কারদ্য এনার্জি গ্লোব অ্যাওয়ার্ড২০১৬পেয়েছে বান্দরবানের বেসরকারি সংস্থা তাজিংডংয়ের একটি প্রকল্প। গত ১০ নভেম্বর মরক্কোর মারাক্কেশে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, অস্ট্রিয়ার নাগরিক উলফগাং নয়মানের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা এনার্জি গ্লোব ফাউন্ডেশন এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। সংস্থার ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ছয়টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য ১৭৮টি দেশ থেকে দুই হাজার প্রকল্প জমা পড়ে। জুরিবোর্ডের সদস্যরা এর মধ্য থেকে প্রথমে ১৭টি প্রকল্প বাছাই করেন। পরে সেখান থেকে সেরা ছয়টি প্রকল্প নির্বাচন করে জুরিবোর্ড।

তাজিংডংয়ের প্রকল্প পুরস্কার পেয়েছেআর্থবিভাগে। পরিবেশের ক্ষেত্রে অস্কার হিসেবে খ্যাত এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯৯৯ সালে।
তাজিংডংয়ের নির্বাহী পরিচালক অংশৈসিং মারমা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সংস্থারসামাজিক অংশগ্রহণে গ্রামীণ সাধারণ বন সংরক্ষণপ্রকল্প এই পুরস্কার পেয়েছে। তিনি বলেন, তাজিংডংয়ের প্রকল্প পুরস্কার পেলেও এটি বাংলাদেশেরই অর্জন।

সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ বনের (ভিলেজ কমন ফরেস্ট) ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। ঢাকার আরণ্যক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় তাঁরা রোয়াংছড়ি উপজেলায় সামাজিক অংশগ্রহণে পাড়াগ্রামের চারপাশের বন সংরক্ষণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এই প্রকল্পের কারণে গ্রামের মানুষের পানির উৎসও সুরক্ষিত হচ্ছে। সেই উৎস থেকে বাড়ি বাড়ি পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ হওয়ায় বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে।

দেশের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় তাজিংডংয়ের এই স্বীকৃতি অন্যান্যদেরও উৎসাহী করবে বলে আমরা আশা করি। দেশের প্র্রতিটি জেলায় বেসরকারি অনেক সংস্থাই কাজ করছে। তবে বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ঋণের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তারাও যদিও শুধু ওই একদিকে ঝুঁকে না থেকে পরিবেশ উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান রাখতে এগিয়ে আসেন, তাহলে তাজিংডংয়ের মতো স্বীকৃতি আসতে পারে তাদেরও।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য