পাটের চা, পাটের সাইকেল, পাটের আরও কতকিছু…
November 24, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

পাটের চা, পাটের সাইকেল, পাটের আরও কতকিছু…

আশরাফুল আলম

পাট বা পাট গাছ দিয়ে কী হয়? সহজ উত্তর হলো- চট হয়, চটের বস্তা হয়। কিন্তু আপনি যদি কোনো পাট পণ্য মেলায় কখনো গিয়ে থাকেন, বা সেখানে কী কী পণ্য পাওয়া যায় সে সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকে তাহলে হয়তো আরও কিছু নাম বলতে পারবেন।

যেমন- পাটের শাড়ি, স্যুট, সোফা, জামা, জুতা, বিছানার চাদর, ফুলদানি, ব্যাগ, মেয়েদের পার্স, কুশন, খাট, দেয়ালের চিত্রকর্ম, ভেড়া, হরিণ, কচ্ছপ, ঘোড়া, মেঝেতে বিছানোর শতরঞ্জি, জানালার পর্দা ও জ্যাকেট আরও কত কী?

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

কিন্তু তাই বলে পাটের সাইকেলের কথা শুনেছেন কখনো? হ্যাঁ, সেটাই সম্ভব করে দেখিয়েছেন, একজন সাইকেল মেকানিক। ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে আবু নোমান ‘সাইকেল জংশন’ নামের একটি দোকান চালান। তিনি অর্ডার মতো হাতে বানিয়ে সাইকেল বিক্রি করেন। তবে শুধু ধাতব ফ্রেমের সাইকেল নয়, এরই মধ্যে বানিয়ে ফেলেছেন পাটের সাইকেল! পাটের সাথে বিশেষ ধরনের আঠা যুক্ত করে এটাকে তিনি ধাতব জিনিসের মতোই কঠিন রূপ দিয়েছেন। তার পর সেটা থেকে বানিয়েছেন সাইকেলের ফ্রেম। সেই ফ্রেমটা ব্যবহার করে সাইকেল বানিয়ে গেল বছর ১৬ ডিসেম্বর বিডিসাইক্লিস্টসের বিজয় দিবস রাইডে যোগ দিয়েছিলেন নোমান।

এবার শোনা যাচ্ছে আরও অদ্ভুত কথা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা পাটের পাতা থেকে চা উদ্ভাবনেও সক্ষম হয়েছেন। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে পাটের পাতা থেকে চা তৈরি করে রপ্তানি ও বাজারজাত করণের উদ্যোগ নিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাসিমুল গনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে তারা এটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছিলেন।

তারপর দীর্ঘ দিনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা হয়েছে পাট পাতার গুণাগুণ এবং সেটা চা হিসেবে পান করার সময় যথাযথ থাকে কি-না এসব নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা।

পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মাইনুল হক বলছেন, তোষা পাটের পাতা থেকে তৈরি করা চা সুস্বাদু হবে কিন্তু দুধ মিশিয়ে এ চা খাওয়া যাবে না। তার মতে এটি গ্রিন টির বিকল্প হবে এবং গুণাগুণের কারণে এটি দ্রুতই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।

সামনে আরও কত কী যে দেখব কে জানে? সত্যিই পাটের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না।

আপনার মন্তব্য