বাঁচতে হলে দিল্লি থেকে শিক্ষা নিতে হবে ঢাকার
November 8, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

বাঁচতে হলে দিল্লি থেকে শিক্ষা নিতে হবে ঢাকার

ইউসুফ হায়দার 

ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং তার আশেপাশে বায়ু দূষণ এবং ঘন ধোঁয়াশা গত এক সপ্তাহ ধরে এক চরম বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সারা শহর জুড়ে বাতাসে দেখা যাচ্ছে ধোঁয়াশার আস্তরণহাজার হাজার স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর আগে নাগরিক জীবনে পরিবেশ বিপর্যয়ের এমন খবর পেয়েছিলাম চীন থেকে। সে দেশের রাজধানী বেইজিংসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরের বায়ু মাত্রাতিরিক্ত দূষিত হয়ে পড়ায় চরমভাবে জীবনযাত্রা ব্যহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে চীনের বড় বড় শহরগুলোর বায়ু এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সে দেশের কোনো কোনো শহরে নাকি এখন একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বোতলভর্তি বিশুদ্ধ বাতাস বেচাকেনাও জমজমাট হয়ে উঠেছে! যা আসলে আমাদের কাছে কল্পনারও অতীত।

এখন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের রাজধানী দিল্লির খবর শুনে মনে হচ্ছে এখনই সচেতন না হলে আমাদের রাজধানী ঢাকার যে অবস্থা তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একই অবস্থা হতে পারে আমাদেরও।

সে কারণেই বলছি, অনাগত এ মহাবিপদ থেকে বাঁচতে হলে দিল্লি থেকে শিক্ষা নিতে হবে ঢাকার। যে কোনো মূল্যে ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা সর্ব নিম্নমাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। তা নাহলে দিল্লি কিংবা বেইজিংয়ের মতো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পড়তে হতে পারে আমাদেরও।   

দিল্লির পরিস্থিতি আসলে কতটা খারাপ, তা সরেজমিনে দেখতে দিল্লির রাজপথে নেমেছিলেন বিবিসির এক সাংবাদিকতাঁর অভিজ্ঞতা হলো-

‘দাঁড়িয়েছিলাম দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের আউটার সার্কলে একটা ব্যস্ত রাস্তার মোড়ের সামনে। সবে মাত্র বিকেল সাড়ে তিনটে বেজেছে, সূর্যাস্ত হতে দুঘন্টারও বেশি বাকিকিন্তু আকাশে ছেয়ে আছে একটা ধূসর কালচে ধোঁয়াশার আস্তরণআলোর তেজ একেবারেই ফিকে, মাত্র পঞ্চাশ মিটার দূরের ট্র্যাফিক সিগনালও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে রাস্তায় গাড়ির ভিড় অবশ্য থেমে নেই, গাড়ির কালো ধোঁয়া পাকিয়ে উঠছে বাতাসেপথচারীরা, মোটরবাইক সাইকেল আরোহীরা মুখোশ চাপা দিয়ে এই বিষবাষ্প থেকে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করে চলেছেন

আর আজ প্রথম নয়ভারতের রাজধানীতে এই দুঃসহ দূষণ চলছে গত একটানা প্রায় সাতদিন ধরে, দীপাবলীতে আতশবাজির রোশনাই মিলোনোর পর থেকেই।”

দিল্লিবাসীদের অভিজ্ঞতা হলো, “পরিস্থিতি অবর্ণনীয়মানুষ শ্বাস নিতে পারছে না, চোখ জ্বলছে। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে?”

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইতোমধ্যেই ঢাকার বাতাসে সিসাসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি বিপদজনকভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা এখন পর্যন্ত শুনিনি। আর এখন দিল্লির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেও আমরা যদি সতর্ক না হই তাহলে আগামী দিনে কী পরিস্থিতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কে জানে?

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য