বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে আপনি কী করতে চান?
November 6, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে আপনি কী করতে চান?

সোহেল হাবিব :
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে আপনি কী করতে চান? সেটা তো আপনিই ভালো জানেন। তবে বেশিরভাগই যা করেন তা হলো একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ছুটেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কেউ কেউ তো একটি চাকরির পাওয়ার জন্য ঘুষ হিসেবে ১০/১৫ লাখ টাকা খরচ করতেও মুখিয়ে আছেন। এই যখন অবস্থা তখন কম সংখ্যক হলেও এমন কিছু মানুষ পাওয়া যায় যারা সাহস করে এমন কিছু করেন, যার ফলে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নয় বরং নিজের প্রতিষ্ঠানে অন্যদের চাকরি দিয়ে কুল পান না।

আজকের সমাজে যারা সফল উদ্যোক্তা তাদের অনেকেই এমন আছেন যারা শুরুতে ছিলেন একেবারেই কর্পদহীন। অর্থাৎ অর্থ-সম্পদ বলতে তাদের তেমন কিছুই ছিল না। নিজের মনোবল আর উদ্যোমের জোরেই আজ তারা প্রতিষ্ঠিত। শুধু নিজের নয়, বরং অন্যদেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে তাদেরই প্রতিষ্ঠানে।

চট্টগ্রামে আমার পরিচিত এমন একজন আছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজে কিছু করার কথা ভাবছিলেন। অবশেষে ভেবেচিন্তে গরুর খামার দিয়েছেন। সেটি এখন বেশ প্রতিষ্ঠিত। আর তাঁর সেই খামারে এখন সমবায়ের ভিত্তিতে অন্যরাও গরু কিনে দিয়ে শরীক হচ্ছেন। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে এর পরিধি আর কর্মব্যস্ততাও।

এবার খবর পেলাম, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমনা বেগমের। যিনি চাকরি না খুঁজে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করছেন। তাকে নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদ ফিচার থেকে জানা গেছে, সুমনা বেগম স্বপ্ন দেখেন স্বনির্ভর বাংলাদেশের। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হয়েও বেছে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী পেশা। গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। সম্ভবত তিনিই বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যার গরুর খামার রয়েছে। তার খামারে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি বিদেশী জাতের গরু রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপ্রত্যয়ী ওই ছাত্রী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের ওসমানপুরের জসিম উদ্দিন মণ্ডলের মেয়ে।পড়াশোনা করা অবস্থায় তার বিয়ে হয়। তবুও দমে যাননি তিনি। বিয়ের পর সুমনা বিগত ২০১২ সালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গরুর খামার করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এক সময় তার বাবা ও স্বামীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ২০১২ সালেই বিদেশী জাতের ২টি বকনা বাছুর দিয়ে খামার গড়ার স্বপ্নের বীজ বুনেন। বকনা বাছুর ২টি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুমনার স্বপ্নও বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে বাছুর ২টিও বাচ্চা প্রসব করে। গরুর সংখ্যা হয় ৪টি। এভাবে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে চলে তার গরুর লালন-পালন। পীরগঞ্জ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেন আত্মপ্রত্যয়ী ওই ছাত্রী। গরুর দুধ বিক্রি করে গরুর খাবার আর বাড়তি কিছু আয় জমা হতে থাকে। আর সেই জমা হওয়া টাকা থেকেই আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে সুমনা বেগমের খামার।
আসলে কোনো কাজই ছোট নয়, আর নিজ উদ্যোগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে ভালো কিছুতেই হতে পারে না। তাই আমরা কি সুমনার উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিতে পারি না নিজে কিছু করার? নাকি শুধু চাকরির পেছনেই আমাদের যৌবনের মূল্যবান সময়টুকু ব্যয় করতে থাকব?

আপনার মন্তব্য