বিশ্ব ব্যাংকের মোড়লীপনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ
November 12, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

বিশ্ব ব্যাংকের মোড়লীপনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ

আশরাফুল আলম

একটি দুঃখজন খবর পড়লাম। কীভাবে বিতরণ ও ব্যায় হবে, সেই পদ্ধতি নিয়ে টানাপড়েনের জেরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশে আসা ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে ফেরত গেছে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন সূত্রে বিডিনিউজে বলা হয়েছে, ‘টানাপড়েনেরকারণেবাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড২০১৭ সালের জুনে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দাতারা।

আর এর জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকেই দায়ী করে দুইজন বিশেষজ্ঞ গার্ডিয়ানকে বলেছেন, সরাসরি না দিয়ে ওই অর্থ বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দেওয়াটা ছিল ব্রিটেনের ভুল সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি, তা অনুধাবন করতে ব্রিটিশ সরকার ব্যর্থ  হয়েছে।

খবরটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক। কেননা, এখানে টাকাটা দাতাদের অথচ মোড়লীপনা করেছে বিশ্ব ব্যাংক। আর তাদের মোড়লীপনার কারণেই মূলত বাংলাদেশের প্রাপ্য টাকা বাংলাদেশ খরচ করার সুযোগ পেল না। বাংলাদেশ যে জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়েছে এর জন্য শুধু আমরা দায়ী নই। এর জন্য দায়ী হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোর কলকারখানা, যানবাহনসহ অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র থেকে নির্গত কালো ধোয়া এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন গ্যাস।

অথচ, উন্নত দেশগুলোর অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বজুড়ে যে জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। আর সে কারণেই তারা জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যৎসামান্য আর্থিক সহায়তা দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া অর্থগুলো একইভাবে এসেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে দাতারা নিজেরা সে অর্থ সরাসরি বাংলাদেশকে না দিয়ে এজেন্ট নিয়োগ করেছিল বিশ্ব ব্যাংককে। আর বিশ্ব ব্যাংক সে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের মোড়লীপনা দেখাতে যাওয়ার কারণেই বাংলাদেশকে বঞ্চিত হলো!

বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে ঋণ দিতে গিয়ে আমাদের সাথে কী করেছে সেটা তো সকলেরই জানা আছে। সম্ভবত একই কারণে এক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যাতে বঞ্চিত হয় সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই তারা কলকাঠি নেড়ে থাকতে পারে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাজ্য। কিন্তু দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডি সিদ্ধান্ত নেয়, সহায়তার অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ সরকারকে না দিয়েমাল্টি ডোনার বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ডেরঅংশ হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে তা দেওয়া হবে।   

আর বিশ্ব ব্যাংক গাদা গাদা শর্ত দিয়ে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কঠিন করে তোলায় তা শেষ পর্যন্ত ফেরত গেল।

যাইহোক, এর পর থেকে আমরা আশা করব, জলবায়ুর ঝুঁকি সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ সর্বরাহের ক্ষেত্রে যেন বিশ্ব ব্যাংকের মতো কোনো মোড়লের হাতে ক্ষমতা না দেয়। কেননা, এক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য