ব্রিটিশদের পাপের একশ বছর
November 3, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

ব্রিটিশদের পাপের একশ বছর

সোহেল হাবিব : একটা সময় ছিল যখন ব্রিটিশদের সাম্রারাজ্যে সূর্য কখনই অস্ত যেত না। সারা বিশ্বের নানা প্রান্তেই ছিল তাদের উপনিবেশ। বর্তমান বিশ্বের প্রবল প্রতাপশালী আমেরিকাও তাদের উপনিবেশ ছিল। এমনকি আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশও ছিল তাদের করতলে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধকল সইতে না পেরে তাদেরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল এই উপমহাদেশ। শুধু তাই নয়, তাদেরকে হারাতে হয়েছে আরও অনেক কিছুই। যদিও এসব হারানোর আগেই তারা সকল উপনিবেশ থেকে লুটেপুটে নিয়ে জড়ো করে ফেলেছিল নিজেদের দেশ ইংল্যান্ডে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করতে গিয়ে নানান কূটকৌশলে সেসব দেশ তারা দখলে নিয়ে উপনিবেশ বানিয়েছে। আর ক্ষমতায় বসে সেসব দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে ব্রিটিশরা নিজেদের পাপের বোঝাও ভারী করেছে। শুধু তাই নয়, তারা তাদের উপনিবেশগুলো ছেড়ে যাওয়ার সময় এমন কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছে যার ফলে সেসব অঞ্চলে অনন্ত হিংসা-বিদ্বেষের বীজ রোপিত হয়েছে। তারই এক দৃষ্টান্ত আজকের ফিলিস্তান।

 

১৯১৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য তথাকথিত আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্রিটেনের অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। ব্রিটিশদের পাপের ফসল এই ইসরাইলের হাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রতিনিয়ত গুম, অপহরণ, হত্যার শিকার হচ্ছে। নিজেদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের।  আর বেলফোর সেই ঘোষণার ফল হিসেবে আজ শুধু ফিলিস্তান নয় গোটা বিশ্বের বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে ইহুদিদের তথাকথিত আবাসভূমি ইসরাইল।

সেকারণেই বেলফোর ঘোষণার ১০০ বছর পূর্তিতে ফিলিস্তিনিদের ‘উচ্ছেদ’ করে সেখানে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। এ রকম দাবিতে এরই মধ্যে একটি প্রচার শুরু করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মীরা। এ বিষয়ে ব্রিটেনের হাউস অব পার্লামেন্টে একটি পিটিশন করা হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশার জন্য ব্রিটেনের ওই ঘোষণাকে দায়ী করা হয়েছে।

ওই পিটিশনে এক লাখ স্বাক্ষর পড়লে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের কথা বিবেচনা করবে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের স্বতন্ত্র সদস্য ব্যারোনেস জেনি টং বলেছেন, পিটিশনে যাই থাকুক না কেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে সহানুভূতিশীল এমপিরা বিষয়টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আগামী বছর হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডসে ইস্যুটি তোলা হবে। এই পিটিশনের আয়োজক কর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ব্রিটেনে অবস্থিত ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন।

ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯১৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য তথাকথিত আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্রিটেনের অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর বেলফোর ঘোষণার ১০০ বছর পূর্ণ হলো। ফিলিস্তিন তখন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। বেলফোর ঘোষণার ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পৃষ্ঠপোষকতায় জবরদস্তিমূলক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আত্মপ্রকাশ করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য অবৈধভাবে বিশ্বসন্ত্রাসী ইসরাইলের জন্ম দিয়েছে। তাদের বেলফোর ঘোষণা এবং অব্যাহত সহযোগিতায় এ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। ব্রিটেন ও তার সহযোগীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৫৩১টি ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহর উচ্ছেদ করে ইহুদিদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সহযোগিতায় অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে চলেছে ইসরাইল।

আপনার মন্তব্য