মোদির চালাকি ! !
November 9, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

মোদির চালাকি ! !

ভারতে এক জরুরি ঘোষণায় ৫০০ আর ১০০০ রুপীর সব নোট নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সারা দেশের লোককে তা ব্যাংকে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ঘোষণায় বলেছেন, কালো টাকার বিস্তার ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ।

কৌশলটা মন্দ না। যারা সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছেন তাদের ধরতে কিংবা একটা উচিত শিক্ষা দিতে এটা দারুণ কাজ করবে বলেই মনে হচ্ছে।

টাকার আবার রং কি? সব টাকার রং তো একই, তাই না? তাহলে সাদা বা কালো টাকার মানে কি? মানেটা হলো যেকোন দেশের নাগরিকদের বাৎসরিক একটা মিনিমাম পর্যায় পর্যন্ত অর্থ আয় করাটা ট্যাক্সমুক্ত থাকে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি আয় করলে নির্ধারিত হারে ইনকামট্যাক্স তথা আয়কর সরকারকে দিতে হয়।

একশ্রেণির মানুষ আছেন, যারা সরকারের নির্ধারিত আয়কর না দেয়ার জন্য তাদের প্রকৃত আয়ের পরিমাণ গোপন রাখেন। আর এটা তারাই বেশি করেন যাদের আয় যত বেশি। সব পেশার মানুষই কমবেশি এটা করেন, তবে বড় বড় ব্যবসায়ীদের নাম এ তালিকায় থাকে সবার উপরে। আর ইনকামট্যাক্স ফাঁকি দিতে বাৎসরিক আয়ের যে পরিমাণ টাকা গোপন রাখা হয় সেটাই অর্থনীতিতে কালো টাকা হিসেবে পরিচিত।

দেশের অর্থনীতির জন্য এই কালো টাকার পক্ষে খুব বেশি অবদান রাখা সম্ভব হয় না। কারণ প্রায় সকল বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকৃত টাকার উৎস জানানোর প্রয়োজন পড়ে। কালো টাকা যেহেতু সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্জিত, তাই এই টাকা সহজে ভালো কোনো কাজ বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না।

তাই এসব টাকার বেশির ভাগটাই বিদেশে পাচার করা হয় কিংবা মদ-জুয়া-বাড়ি-গাড়িসহ নানা বিলাসব্যাসনে ব্যয় করা হয়ে থাকে। এমনকি সন্ত্রাসী কার্যকলাপেও এসব অর্থ ব্যবহার হয়ে থাকে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ছাড় দিয়ে রাষ্ট্র চেষ্টা করে এসব কালো টাকাকে বিনিয়োগে বা অর্থনীতির মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার। কিন্তু কালো টাকার মালিকরা ভয়ে থাকেন, সরকারের দেওয়া সুযোগ নিয়ে আজ যদি তারা কালো টাকা সাদা করেন তাহলে হয়তো তারা চিহ্নিত হয়ে থাকবেন কিংবা তাদের উপর নজরদারী বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণেই তারা খুব একটা সাড়া দেন না। ফলে তাদের অর্জিত এসব কালো টাকা দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের বোঝাস্বরূপ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিকারকও।

এই কালো টাকার দৌড়াত্ম্য শুধু যে ভারতে আছে তাই নয়, বরং আমাদের বাংলাদেশেও বিপুল পরিমাণ কালো টাকার পাহাড় জমে আছে অল্প কিছু মানুষের হাতে। আর এটা বোঝা যায় বাজেট পেশের আগে। একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা দাবি তুলতে থাকেন কালো টাকাকে বিনা প্রশ্নে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমাদের অর্থমন্ত্রীও প্রায় প্রতি বছর কম-বেশি তাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সুযোগ দেওয়ার পরও খুব বেশি পরিমাণ কালো টাকা তারা সাদা করেছেন বলে প্রামাণ পাওয়া যায় না।

যাইহোক, ভারতে এই কালো টাকার দৌড়াত্ম্য এতটাই বেড়ে গেছে যে তাতে সে দেশের সরকার খুবই অতিষ্ঠ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিবিআই) বিদেশি ব্যাংকে গচ্ছিত কালো টাকা নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছে। সিবিআই জানিয়েছে, ভারতীয়দের বিদেশের ব্যাঙ্কগুলিতে সব থেকে বেশি কালো টাকা রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে ভারতীয়দের কালো টাকার পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা)। মরিশাস, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, লিচেনস্টেন-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে হিসাব বহির্ভূত টাকা রয়েছে ভারতীয়দের।

এসব টাকা ভারতে ফিরিয়ে আনতে এবং ভারতের অভ্যন্তরে জমে থাকা আরও বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করতে নানা চেষ্টা তদবির করে যাচ্ছে সেদেশের সরকার। কিন্তু খুব বেশি সফল হয়নি তারা। আর সে কারণেই এবার মোদি সরকার ৫০০ এবং ১০০০ রুপীর নোট বাতিল ঘোষণা করল। কেননা, কালো টাকার মালিকরা সাধারণত তাদের জমানো অর্থ হিসেবে বড় বড় নোটগুলোই বেশি ব্যবহার করে থাকেন। আর এর ফলে বৈধ টাকার মালিকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে ব্যবস্থাও রেখেছেন তারা।

এই কৌশলটা চাইলে আমরাও কাজে লাগাতে পারি। যদিও এটা সব ক্ষেত্রে কাজে লাগবে না। বিশেষ করে, যারা ইতোমধ্যে টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন কিংবা যারা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিদেশে কালো টাকা জমাচ্ছেন তাদেরকে এই কৌশলে আটকানো যাবে না। তারপরও দেশের অভ্যন্তরে যারা কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছেন তারা কিছুটা হলেও শিক্ষা পাবেন এই কৌশল অবলম্বন করলে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য