রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্বটা আমাদেরই হতে পারত!
November 29, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্বটা আমাদেরই হতে পারত!

ইউসুফ হায়দার :

রেডিও আবিষ্কারকের নাম জানতে চাইলে সারা বিশ্বই বলবে জি মার্কনির নাম। কিন্তু আসলে সেটার কৃতিত্ব আমরাও পেতে পারতাম। গর্ব করে বলতে পারতাম, আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুই রেডিও আবিষ্কার করেছেন।

আর আমাদের দেশের বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর রেডিও আবিষ্কারের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সূত্রপাত হয়েছিল।

জগদীশ চন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম প্রায় ৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেছিলেন। যা বর্তমান বিশ্বে মাইক্রোওয়েভ নামে পরিচিত। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জগদীশ চন্দ্র বসু তাঁর এ আবিষ্কার নিজের নামে প্যাটেন্ট করানোর আগেই সেটা চলে গিয়েছিল জি মার্কনির ঝুলিতে।

তাতেও আমাদের আফসোস নেই। কারণ, জগদীশ চন্দ্র বসু শুধু রেডিও আবিষ্কার করেই বসে ছিলেন না, বরং তিনি নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন, উদ্ভাবন করেছেন অনেক কিছুই। এর মধ্যে উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে সেটাও তিনি প্রমাণ করেছিলেন। জগদীশের এ আবিষ্কার বিশেষ করে প্রাণি বিজ্ঞানীদের চিন্তা-ভাবনাকেই বদলে দিয়েছে।

আচ্ছা, আমি আপনাদেরকে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু সম্পর্কে এত কথাই-বা বলছি কেন?

হ্যাঁ, কারণ তো একটা আছেই। আর সেটা হলো জগৎ বিখ্যাত এ বিজ্ঞানীর জন্মদিন আজ। ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি আমাদের এই বাংলাদেশেই। বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামেই ছিল তাঁর পৈতৃক বাড়ি।

যিনি কিনা একাধারে ছিলেন একজন পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী। উদ্ভিদ বিজ্ঞানে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনিই প্রথম উদ্ভিদবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা করেন। পদার্থ বিজ্ঞানে গবেষণার কারণে ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলেও অভিহিত করে।

এ মহান বিজ্ঞানীর জন্মদিনে আজ আমরা তাঁর অবদানকে স্মরণ করছি শ্রদ্ধার সাথে।

আপনার মন্তব্য