শহীদ তিতুমীর ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার অগ্রসৈনিক
November 19, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

শহীদ তিতুমীর ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার অগ্রসৈনিক

ইউসুফ হায়দার

শহীদ তিতুমীর ছিলেন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অগ্রগামী সৈনিক।যাঁর প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী এক মহান বিপ্লবী জমিদার ব্রিটিশদের বিরূদ্ধে সংগ্রাম তাঁর বিখ্যাত বাঁশের কেল্লার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন ব্রিটিশ সেনাদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় বাঁশের কেল্লাতেই ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর শহীদ হন

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি তিতুমীরের জন্ম হয় চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের চাঁদপুর গ্রামে (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে) তাঁর পিতার নাম মীর হাসান আলী এবং মাতার নাম আবিদা রোকেয়া খাতুন তিতুমীরের প্রাথমিক শিক্ষা হয় তাঁর গ্রামের বিদ্যালয়ে পরবর্তীকালে তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসাতে লেখাপড়া করেন ১৮ বছর বয়সে তিতুমীর কোরানে হাফেজ হন এবং হাদিস বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করেন একই সাথে তিনি বাংলা, আরবি ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন

১৮২২ সালে তিতুমীর মক্কায় হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে যান তিনি সেখানে স্বাধীনতার অন্যতম পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমেদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন ওয়াহাবী মতবাদে অনুপ্রাণিত হন সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তাঁর গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা তৎকালীন হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারের প্রতিবাদে ধুতির বদলেতাহ্বান্দনামে এক ধরনের বস্ত্র পরিধান শুরু করেন তিতুমীর হিন্দু জমিদার কর্তৃক মুসলমানদের উপর বৈষম্যমূলকভাবে আরোপিতদাঁড়ির খাজনাএবং মসজিদের করের তীব্র বিরোধিতা করেন তিতুমীর তাঁর অনুসারীদের সাথে স্থানীয় জমিদার ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হতে থাকে আগেই তিতুমীর পালোয়ান হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং পূর্বে জমিদারের লাঠিয়াল হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি তাঁর অনুসারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলেন

তিতুমীরের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে এক সময় ,০০০ গিয়ে পৌঁছে তারা সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হন ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবরর বারসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়ায় তাঁরা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বিস্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন

তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগণা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন স্থানীয় জমিদারদের নিজস্ব বাহিনী এবং ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীরের হাতে বেশ কয়েকবার পরাজয় বরণ করে তন্মধ্যে বারাসতের বিদ্রোহ অন্যতম উইলিয়াম হান্টার বলেন, বিদ্রোহে প্রায় ৮৩ হাজার কৃষকসেনা তিতুমীরের পক্ষে যুদ্ধ করেন

অবশেষে ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর কর্নেল হার্ডিংএর নেতৃত্বে ব্রিটিশ সৈন্যরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র কামানগোলা নিয়ে তিতুমীর তাঁর অনুসারীদের অক্রমন করে তিতুমির তাঁর অনুসারীদের নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, কিন্তু কামানগোলার আঘাতে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা চূর্ণবিচূর্ণ হয় যেই যুদ্ধে বাঁশের বিরুদ্ধে ইংরেজদের কামানগোলা ব্যবহার করতে হয়, সেই যুদ্ধে বাঁশ কত বড় একটা অস্ত্র ছিল তা বলা বাহুল্য অবশেষে ১৯শে নভেম্বর তিতুমীর শহীদ হন

স্বাধীনতা সংগ্রামরে অগ্রসৈনিক তিতুমীর সেদিন শহীদ হলেও তাঁর আত্মত্যাগ ও চেতনার বীজ থেকেই পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। অবশেষে মুক্তি এসেছে আমাদের। আজও যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনা যুগিয়ে চলেছে শহীদ তিতুমীরের আত্মত্যাগ।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য