স্যালুট আমাদের জাতীয় চার বীরের প্রতি 
November 3, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

স্যালুট আমাদের জাতীয় চার বীরের প্রতি 

ইউসুফ হায়দার

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা জাতীয় চার নেতার হত্যা দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে তাদেরকে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শহিদ হওয়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান- এই চার বীরের প্রতি তাই আমরা স্যালুট জানাই।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এর কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে আরেকটি বর্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে তারা। ঘাতকচক্র ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর আজীবন রাজনৈতিক সহচর, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেন সেই জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে জেলখানার অভ্যন্তরে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন জাতীয় এ চার নেতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান। শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এই চার নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোদ্ধা হিসেবে তার পাশে ছিলেন। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুকে যখন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে এই চার নেতাই আন্দোলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন।

সম্ভত ঘাতক চক্রের লক্ষ্য ছিল, বাঙালিকে নেতৃত্বশূন্য করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানে আটক করে রাখার পর যে চার নেতা বঙ্গবন্ধুর হয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন, সেই জাতীয় চার নেতাকেও বঙ্গবন্ধুর মতো নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

কিন্তু ঘাতকের বুলেটই তো শেষ কথা নয়, ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কুচক্রী খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জাতীয় চার নেতাকে দলে ভিড়াতে ব্যর্থ হয়। চার নেতা জাতির পিতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং মোশতাকের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেন। মোশতাক তাদের প্রথমে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। পরে তার প্ররোচনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় ৩ নভেম্বর এই চার জাতীয় নেতাকে ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের মতো বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে ’৭৫-এর ঘোর দুর্দিনেও যারা অকুতোভয় থাকতে পারেন, যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি আস্থায় অবিচল থাকতে পারেন তাদের সম্মান জানানোর ভাষা আমাদের নেই। তবু, তাদের জানাই আমাদের স্যালুট।

আপনার মন্তব্য