সড়ক সংস্কারের নতুন যুগে বাংলাদেশ
November 23, 2016
Bangladeshism Desk (766 articles)
Share

সড়ক সংস্কারের নতুন যুগে বাংলাদেশ

ইউসুফ হায়দার

বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাটগুলো সাধারণত বর্ষা এলেই খানা খানাখন্দে ভরে যায়। কোনো কোনো স্থানের রাস্তা তো প্রায় প্রতিবছরই সংস্কার করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু তারপরও দেখা যায়, কদিন বাদেই আবার আগের অবস্থা।

পিচ গলে যায়, সুরকি বেরিয়ে পড়ে, ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয় রাস্তায়। কখনো বাজেট স্বল্পতার কারণে হয়তো প্রয়োজনীয় সংস্কার যথাসময়ে করা যায় না, আবার কখনো এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের অনৈতিক তৎপরতায় নামকাওয়াস্তে কাজ করেই বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ফলে চলাচলকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় নিরন্তর।

আবার দেখা যায়, যে কাজ করা প্রয়োজন শীতকালে সেটা শুরুই হয় বর্ষায়, আর বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার সংস্কার কাজ করতে গিয়ে কোনোভাবেই কাজের মান ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এতে টাকা খরচ হয় ঠিকই কিন্তু ফল পাওয়া যায় না আশানুরূপ। আবার বড় কাজের জন্য শীতকালে পর্যাপ্ত সময়ই পাওয়া যায় না।

এসব নানা সমস্যার মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আমদানি করেছে দুটি অত্যাধুনিক যন্ত্র। এর মধ্যে একটি যন্ত্র দিয়ে ১২ ফুট প্রস্থের এক কিলোমিটার সড়ক কাটতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। আর কাটার পর বেরিয়ে আসা ইট-পাথর পুনঃপ্রক্রিয়া করা যাবে আরেকটি যন্ত্র দিয়ে। এই যন্ত্র প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আনা হয়েছে। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এসব যন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে এক কিলোমিটার সড়ক নতুন করে সংস্কার করতে সময় লাগবে মাত্র সাত ঘণ্টা।

অথচ, আগে প্রচলিত নিয়মে এই কাজ করা হতো কয়েক মাস সময় লাগিয়ে। ফলে নির্মাণ সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্র ফেলে রাখতে হতো রাস্তার উপরেই, এতে মানুষ এবং যানবাহনের চলাচলে পোহাতে হতো দীর্ঘ ভোগান্তি।

এসব ভোগান্তি থেকে সহজেই মুক্তি মিলতে পারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আমদানিকৃত যন্ত্র দুটি। জানা গেছে, এই যন্ত্র দুটি হলো ‘কোল্ড মিলিং মেশিন’ ও ‘কোল্ড রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট’। কোল্ড মিলিং মেশিন দিয়ে নিখুঁতভাবে ১৩ ইঞ্চি গভীর করে সড়কের পিচ ও ইট-পাথর কাটা যাবে৷ আর কোল্ড রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট দিয়ে এই ইট-পাথর ঘণ্টায় ১২০ টন পুনঃপ্রক্রিয়া (রি-সাইক্লিং) করা যায়। রি-সাইক্লিং করে উপকরণগুলোর ৪০ শতাংশ ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। এতে একটি সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৪৫ ভাগ খরচ কমে যাবে।

ইতোমধ্যে এই দুটি যন্ত্রের সাহায্যে ডিএসসিসির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশীর জহির রায়হান রোডের সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন পর্যাপ্ত জনবল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্র দিয়ে এক কিলোমিটার সড়ক সাত ঘণ্টায় সংস্কার করা সম্ভব হয়েছে। এভাবে রাজধানীর অন্যান্য সড়কও সংস্কার করা হবে।

ডিএসসিসির এই উদ্যোগ, অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। আর এর মধ্যে দিয়ে পুরানো সড়ক সংস্কারের প্রযুক্তিতে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। তবে একটি আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এক শ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের চক্ষুশূল হতে পারে যন্ত্র দুটি। কেননা, এতে তাদের দাও মারার সুযোগ কমে যাবে। তাই সেই দিকে নজর রাখতে হবে ডিএসসিসিকে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য