এলিয়েনরা আমাদের পিছু ছাড়বে না

47
SHARE

ইউসুফ হায়দার :
কদিন আগে খবর বেরিয়েছিল, আমেরিকার ওবামা প্রশাসন আশঙ্কা করছেন যে আগামী বছরের মধ্যে পৃথিবী আক্রান্ত হতে পারে ভিনগ্রহবাসী এলিয়েন দ্বারা। তারা শুধু যে এলিয়েনদের আক্রমণের আশঙ্কা করেই নীরব রয়েছেন তাও নয়। বরং এলিয়েনদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে।

এমনকি, আমেরিকা তাদের প্রতিপক্ষ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছেও সে বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন সে বার্তা নাকি গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন।

এদিকে আবার বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস বিভিন্ন সময় এলিয়েনদের থেকে নিরাপদ থাকার জন্য পৃথিবীবাসীকে সতর্ক করছেন বারবার।

এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, পৃথিবীবাসীর সাথে এলিয়েনদের যোগাযোগ নাকি ছিল প্রাচীনকালেও। মিশরীয় ফারাওদের কাছে এলিয়েনদের আনাগোনা ছিল। এমনকি এলিয়েনদের মমিও রয়েছে তাদের তাদের পিরামিডগুলোতে।অজ্ঞাত কারণে এই খবর অবশ্য মিশরীয় কর্তৃপক্ষ অনেক দিন ধরেই গোপন রাখার চেষ্টা করে এসেছে।

১৯৮৮ সালের কথা। মিসরের গিজা পিরামিডের ভেতরে অনুসন্ধানের সময় ফরাসী এক প্রত্নতাত্বিক পেলেন গোপন কক্ষের সন্ধান। খুব গভীরে থাকা ওই কক্ষটি সম্পর্কে তিনি যে ধারণা পেলেন তা হলো, পিরামিডটি নির্মাণের পরপরই সেটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। যেন পরবর্তীতে আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। ওই প্রত্নতাত্বিক কক্ষটির বাইরে দেয়ালে দেখেন মিসরীয়দের আঁকা কিছু সংকেত। যা হায়ারোগ্লিফিক্স নামে পরিচিত।

হায়ারোগ্লিফিক্স সম্পর্কে চ্যাপেরাট নামের ওই প্রত্নতাত্বিকের ভালোই ধারণা ছিল। তবে অর্থ উদ্ধার করে তিনি যা বুঝলেন, তাতে মাথায় তার আকাশ ভেঙ্গে পড়ার জোগাড়! সংকেতের অর্থ দাড়ায় এমন, “প্রবেশ নিষেধ। এখানে যিনি শুয়ে আছেন তিনি আকাশের তারা থেকে নেমেছিলেন ফারাওদের কাছে। বিশেষ দূত হিসেবে।”

লেখাটি প্রত্নতাত্বিককে আরও উৎসাহী করে তোলে। কক্ষটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ জেনেও এর পথ খুঁজতে শুরু করেন। কক্ষটি আবিষ্কারের পর সেখানে এমন কিছু জিনিস পাওয়া যায় যার ব্যাখ্যা মেলানো সত্যিই কঠিন। কক্ষের ভেতরে ছিল স্বচ্ছ স্ফটিকে ঢাকা একটি শবাধার। তবে ভেতরে লক্ষ করে হতবাক হয়ে যান ওই প্রত্নতাত্বিক। ভেতরে রয়েছে কোনো মানুষ নয়, এলিয়েন। সেখানে এক জায়গায় লেখা রয়েছে, ‘এখানেই শুয়ে আছেন আকাশ থেকে আসা সেই বিশেষ দূত।’

এমন অদ্ভুত ও রহস্যময় লেখা আর মানুষের মতো আকৃতির শবাধার দেখে ভয় পেয়ে যান ওই প্রত্নতাত্বিক। ফরাসী প্রত্নতাত্বিকের ওই আবিষ্কারের পর হঠাৎ করেই অন্যমূর্তি ধারণ করে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। ১৯৮৮ সালের ওই ঘটনার পর মিশরের কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও বিষয়টি সম্পর্কে আর মুখ খোলেনি।

আশির দশকে ভিনগ্রহের ওই প্রাণির মরদেহের সন্ধান পেলেও তা একেবারেই গোপন করে ফেলে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। সরিয়ে ফেলা হয়, এ সম্পর্কীত সব ধরনের ছবি এবং তথ্য। সম্প্রতি এমন একটি ছবি ফাঁস হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে এটিই সেই পিরামিডের কথিত এলিয়েন মমি।

মিশরীয় পিরামিডে এলিয়েনের মমি থাকার খবর দেখে মনে হচ্ছে, এলিয়নরা আমাদের পিছু ছাড়বে না। তারা আগেও এসেছিল, স্টিফেন হকিংসের ভবিষ্যৎবাণীকে সত্যে পরিণত করে হয়তো আবারও আসবে। তবে এলিয়েনরা আবার পৃথিবীতে এলে সেটা পৃথিবীবাসীর জন্য মঙ্গল নাকি অমঙ্গল ডেকে আনবে সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

আপনার মন্তব্য