মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ

33
SHARE

সৈয়দ ইবনে রহমত :

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে সমন্বিত পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার দুর্ভোগ লাঘবে তিনি সমন্বিত পরীক্ষার এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

এটি যে কতটা ভালো এবং যুগোপযোগী একটি প্রস্তাব তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কারো বুঝবার কথা নয়। কেননা, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটিতে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদা আবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় বিপুল অর্থও ব্যয় হয়।

শুধু তাই নয়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি সাবজেক্টের জন্য আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলে দেখা গেছে একজন শিক্ষার্থীকে একই দিনে তিনটি পরীক্ষাও দিতে হয়েছে, যা এক অর্থে অমানবিকও। অনেক ছেলেদের ক্ষেত্রেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ছোটাছুটি করাটা যেমন অসাধ্য, তেমনি মেয়েদের জন্য সেটা প্রায় অসম্ভবও।

কেননা, হঠাৎ করেই অভিভাবকরা তার কন্যা সন্তানটিকে কার জিম্মায় দূরদুরান্তে পাঠাবেন? অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজেরাই তাদের নিয়ে দিনের পর দিন এক জেলা থেকে অন্য জেলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছোটাছুটি করেন। ফলে এতে অর্থ, সময়, মনোবল সব কিছুরই ক্ষয় হয়। কিন্তু সেটাই-বা করার সামর্থ্য আছে কয়জনের?

গত ২ নভেম্বর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘অষ্টম ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের বিষয়টিতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন-

“অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এক শহর থেকে অন্য শহরে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা যে অবর্ণনীয় সমস্যা বিশেষ করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সমস্যায় পড়েছে, তা কল্পনাতীত।”

এটা যে কতটা নির্মম বাস্তবতা তা কেবল যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তারাই জানেন। আর সেকারণেই কেন্দ্রীয়ভাবে বা অঞ্চলভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন আমাদের রাষ্ট্রপতি।

যাইহোক, এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাবলিক পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সম্ভবত এর উদ্যোক্তা ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল স্যার। তিনি এটা নিয়ে নানা ফোরামে দেনদরবার করেছিলেন। কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ করে পত্রিকায় কলামও লিখেছিলেন।

আর এর পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, ভর্তি পরীক্ষায় যে বিপুল পরিমাণ ফরম বিক্রি হয় তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাংক একাউন্টে জমা পড়ে অঢেল টাকার পাহাড়। সেটা আবার বিলিবণ্টন করা হয় শিক্ষকদের মাঝেই। তাই অনেক শিক্ষক আছেন যারা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষাকে সমর্থন করে হয়তো সেই টাকা থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে চান না। থাকতে পারে আরও কিছু ভিন্ন কারণ। কিন্তু যত কারণেই থাকুক না কেন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের হয়রানি বন্ধে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা কোনোভাবেই অসম্ভব হতে পারে না।

তাছাড়া মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজগুলোতে তো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু রয়েছেই। যদিও মেডিক্যাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ এক নয়, তারপরও আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটা উদাহরণ হতে পারে।

আপনার মন্তব্য