চট্টগ্রামের সিনেমা, এক নতুন চমকের অপেক্ষায়…

44
SHARE

আমরা একটা সিনেমা তৈরী করছি। আর এই কাজটা করা আমাদের জন্য একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ নাটকের নামে সিনেমা না, সত্যিকারের সিনেমা বানানোর চেষ্টা করছি। আমরা আমরাই। বড় বা ছোট কোন স্পন্সর নেই, কোন ধরনের অনুদান বা কিছু নেই। নিজেদের গরজে, নিজেদের যা আছে সব নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছি বলা যেতে পারে।

এই সিনেমাটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। আজ থেকে ৫/৬ বছর আগে চট্টগ্রামকে একটি বিকল্প মিডিয়া সিটি বা ফিল্ম সিটি বানানোর জন্য আমি বাংলাদেশে আমার কার্যক্রম শুরু করি খুব ছোট পরিসরে। এক রুমের অফিস কাম স্টুডিও থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। আর এখন পুরো একটি দালানে পরিণত হয়েছে বিন্দু বিন্দু করে। ধীরে ধীরে আমরা চট্টগ্রামে বসেই আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা বানানোর সক্ষমতা অর্জন করি, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তি যোগাড় করি, নিজদের স্টুডিও এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ছোটখাটো ফিল্ম সিটি তৈরী করি (এখনও করছি)।

চট্টগ্রামের আর্টিস্ট, সংগীত শিল্পী হতে শুরু করে নান ধরনের ক্রিয়েটিভদের এক করার চেষ্টা করেছি এবং এখনও করে যাচ্ছি। চট্টগ্রামের তরুনদের নিয়ে নতুন সব চিন্তা ভাবনার আয়োজন করে গেছি নানা সময়ে বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের মাধ্যমে। সিনেমা বানানোর জন্য টেকনিক্যাল

এক্সপার্ট তৈরী করি নিজেদের অফিসে ট্রেনিং দিয়ে বিনামূল্যে আর সেখান থেকে বের করে এনেছি ভাল এডিটর, সিনেমাটোগ্রাফার, সেটডিজাইনার, প্রোডাকশন ডিজাইনার, স্পেশাল ইফেক্ট আর্টিস্ট, ক্যামেরা ক্রু এবং আরো অনেক কিছু। ৬০ স্কয়ার ফিটের অফিসকে ধীরে ধীরে রুপান্তরিত করেছি ৮,০০০ স্কয়ারফিটের অফিসে। শুটিং ফ্লোর তৈরী করেছি।

এসব করতে আমাদের সময় লেগেছে অনেকদিন আর সবকিছু করতে হয়েছে লোকাল রিসোর্স ব্যবহার করে। কারণ চট্টগ্রামে একটা ফিল্ম কোম্পানী বা প্রোডাকশন হাউজ চালানো শুধু কঠিনই না, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। কারণ এখানে তো আর ঢাকার মেইন্সট্রিমের মত ব্যবসা নেই। আর যা আছে তা অন্তত যথেষ্ট না। যখন শুরু করেছিলাম, আশা করেছিলাম চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো এগিয়ে আসবে, কিন্তু সবাই আসলে ঢাকামুখী,

 

এত কিছু করতে গিয়ে নানা সময়ে নানা ভাবে কেউ লেগ-পুল করার চেষ্টা করেছে হেল্প করার বদলে, আবার অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে চট্টগ্রামে ফিল্ম কোম্পানীর কথা শুনে। কিন্তু তার মাঝেও পেয়েছি কিছু । এরই মাঝে আমরা কাজ করেছি বাংলাদেশ সরকারের সাথে, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাথে এবং বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে।

আমরা এই মুহুর্তে বিশ্বের নামকরা সিনেমা ক্যামেরা প্রতিষ্ঠানের রিভিউয়ার, ব্র্যান্ড এম্বাসাডর – এবং বাংলাদেশে একমাত্র আমরাই। চট্টগ্রামে বসেই আমরা ফিচারড হয়েছি বিদেশী নামকরা ম্যাগাজিনে, ওয়েবসাইটে। স্টুডিও ভক্স, ব্ল্যাকমেজিক ডিজাইন এবং সম্প্রতি ফিল্ম মেকারদের টাইমস ম্যাগাজিন খ্যাত “এশিয়া ইমেজে” ফিচার করা হয়েছে আমাকে এবং আমাদের এই প্রতিষ্ঠানকে। যে ম্যাগাজিন পৃথিবীর ১৩৮টি দেশে কিনতে পাওয়া যায়।

চট্টগ্রামে বসেই আমরা সম্ভব করেছি। চট্টগ্রামে বসেই আমরা বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট চালিয়েছি যার ফলোয়ার সংখ্যা এখন প্রায় ১ মিলিয়ন।

আর তাই, আমরা এবার আমাদের এই সিনেমার ব্যাপারে আশাবাদী। আমাদের মনে হয় আমরা পারব। চট্টগ্রামে বসে আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা। সত্যিকারের সিনেমা। এমন এক সিনেমা যার জন্য হয়তো মানুষ অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছে। এমন একটা সিনেমা যা হয়তো অন্যদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে পারবে। এমন একটা সিনেমা যা হয়তো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন রুপ দিবে। হয়তো আমাদের এই সিনেমা বা আমাদের কথা আপনারা বাংলাদেশী পত্র-পত্রিকা বা মেইন্সট্রিমে কখনও শুনবেন না, কখনও দেখবেন না টিভিতে প্রচারনা চলছে বা পত্রিকার বিনোদন পাতাগুলো প্রমোট করছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে হয়তো খুজেও পাবেন না। কিন্তু, আমাদের এই সিনেমার গল্প এই সিনেমার পেছনের গল্প আর চেষ্টা গুলোর কথা আপনারা শুনবেন মানুষের মুখে, সাধারন মানুষের মাধ্যমে। আমরা সেই ব্যবস্থাই করে নিয়েছি নিজেদের জন্য। এটাই আমরা চেয়েছিলাম।

দিনে এনে দিনে খাওয়ার মত করে আমরা আমাদের এই সিনেমাটা বানাবো মাসজুড়ে। আর এই গুটি গুটি পায়ের সিনেমা যেখানে জড়িয়ে আছে শত সাধারন মানুষের চেষ্টা, সেই সিনেমা আবার আপনাদের বাংলা সিনেমার খুব কাছে টেনে আনবে – এটাই আমাদের একমাত্র স্বপ্ন। এখন যখন কেউ আমাদের অফিসে আসে, তখন আর কেউ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে না চট্টগ্রামের ফিল্ম কোম্পানী দেখে। এটা যেহেতু বদলে গেছে, তাহলে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। বদলে যবে। আর এ সব কিছু হবে আপনাদের হাত ধরে।

ভাল থাকুন।
নাহিদরেইন্স

আপনার মন্তব্য