উপকূলবাসীর আতঙ্কের নাম নড়বড়ে ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ

26
SHARE

ইউসুফ হায়দার :
বঙ্গোপসাগরে প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি সংগঠিত হয় একাধিক ঘূর্ণিঝড়, বাংলাদেশের উপকূলবাসীর জন্য এটা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনাই বলতে হবে। তবে কোনো কোনো ঘূণিঝড় আবার চরম ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ধ্বংস করে দেয় উপকূলীয় জনপদ। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝর, ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৮ সালের নার্গিস এমনই কয়েকটি ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড়।

একারণেই একটা আতঙ্ক সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলীয় জনগণকে। আর তাদের এ আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয় উপকূলজুড়ে অরক্ষিত ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধ।ষাট এর দশকে নির্মাণ করা এসব বাঁধ এখন নামে মাত্রই টিকে আছে। অনেক এলাকায় বাঁধের কোন অস্তিত্বও নেই। বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ পুননির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নও হয়, কিন্তু অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না।

গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে চট্টগ্রামে ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বেড়িবাঁধ নির্মাণে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশালে ব্যয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকারও বেশি। ফেনী ও নোয়াখালীতে ব্যয় হয়েছে ২৪০ কোটি টাকা। আর সাতক্ষীরা ও খুলনায় ব্যয় হয়েছে ৫৮০ কোটি টাকার উপরে। এত টাকা ব্যয় করেও উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ আজও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। বরং ২১টি উপকূলীয় জেলার অধিবাসীদের দিন কাটে চরম আতঙ্কে।

এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সারাদেশে ১১ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৬০ কিলোমিটার হচ্ছে উপকূলীয় বাঁধ। উপকূলীয় বাঁধে মধ্যে প্রায় ২৩শ’ কিলোমিটার বাঁধ অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ।

জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ও বরগুনা জেলায় প্রায় ২৬শ’ কিলোমিটার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার কিলোমিটার বাঁধই এখন অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এসব এলাকার বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

আমাদের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা এবং প্রচণ্ডতা দিনে দিনে বাড়ছে। কিন্তু সময় মতো বেড়িবাঁধগুলোর সংস্কার, পুননির্মাণ না হওয়ায় উপকূলবাসীর মনে আতঙ্কও বাড়ছে। কোনো কোনো স্থানে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি এসে তলিয়ে যায় বিস্তৃর্ণ ফসলের জমি। এতে লবণাক্ত হয়ে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন সরকারের সংশ্লিষ্টদের এদিকে একটু নজর দেওয়া দরকার।

আপনার মন্তব্য