যেখানে প্রশ্নের মুখে গণমাধ্যমের সততা

39
SHARE

ইউসুফ হায়দার :
গণমাধ্যমের কাজ হলো সত্যকে যথাযথভাবে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমগুলো তাদের এ বৈশিষ্ট্য তথা ধর্ম সঠিকভাবে পালন করে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে গোড়া থেকেই। তারপরও মানুষ আশা করে যে বিভিন্ন গণমাধ্যম তাদের সামনে যেসব খবর পরিবেশন করছে তা অবশ্যই সত্য।

ইরাক যুদ্ধের আগে একটি শক্তিশালী পশ্চিমা গণমাধ্যম খবর দিয়েছিল যে সাদ্দাম হোসেন ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলেছেন। তাই তার কাছে প্রতিবেশীরা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। সেই সংবাদ এবং একই সাথে কিছু কল্পিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডব্লিও বুশ প্রথম দিকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে জোর প্রচারণা চালান। এবং শেষ পর্যন্ত হামলা চালিয়ে দেশটিকে ধ্বংস করেন।

সাদ্দাম হোসেনের পরাজয়ের পর যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশটিতে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তেমন কোনো মারণাস্ত্রের সন্ধান পায়নি আমেরিকা। অতঃপর, তারা বললেন যে, তারা যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে আক্রমণ করেছিলেন সেটি ভুল ছিল! এটা যে কত বড় মারাত্মক ভুল ছিল তা হারে হারে টের পাচ্ছে কোনো রকমে বেঁচে যাওয়া ইরাকি জনগণ।

মার্কিন সরকারের কর্তারা তাদের গোয়েন্দা তথ্যে যে ভুল ছিল সেটা স্বীকার করলেও যে গণমাধ্যমটি এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল তারা কিন্তু ভুল স্বীকার করেছে বলে আমরা আজ পর্যন্ত শুনিনি।

বিশ্বব্যাপী প্রায় সব দেশের গণমাধ্যম কম-বেশি ভুল কিংবা আংশিক ভুল সংবাদ প্রচার করে। এটা কখনো কখনো হয়তো ঘটে তাদের অসাবধানতার কারণে। আবার জেনে-শুনেও এমন কাণ্ড যে তারা ঘটান না, তা-ও বলা যাবে না। যেমনটি এবার মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ঘটিয়েছে ফক্স নিউজ। নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহুর্তে এসে সংবাদ মাধ্যমটি প্রচার করে যে এফবিআই হিলারীর ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে আবার তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে ক্ষমতায় থাকাকালীন ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সাথে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগও আনতে যাচ্ছে এফবিআই।

সংবাদটি প্রকাশ করেই ফক্স নিউজ থেমে থাকেনি, বরং এর সমর্থর্নে একের পর এক সংবাদ এবং সংবাদ ভাষ্য তারা প্রচার করেছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ দিকে এসে এমন একটি সংবাদে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় আমেরিকান জনগণ। ফলে শুরু থেকে যেখানে জনমত জরিপে হিলারী এগিয়েছিলেন, সেখানে সাময়িকভাবে পতন ঘটতে থাকে। বিস্ময়করভাবে জনমত বাড়তে থাকে ট্রাম্পের। যদিও সেটি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

শেষ পর্যন্ত হিলারী সে ধাক্কা কাটিয়ে আবার প্রবলভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। শুধু ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বললে ভুল হবে, বরং তিনি নিরাপদ ব্যবধানেই এগিয়ে গেছেন নির্বাচনী দৌড়ে।

এ পর্যায়ে এসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্যালোন-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবে না এফবিআই। যদিও ফক্স নিউজ তার পাঠকদের এই ধারণা দিতে চাচ্ছে বারবার। বুধ ও বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ বারবার বলেছে, এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চাচ্ছে।

স্যালোন-এর খবরে দাবি করা হয়েছে, এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে বলে ‘মিথ্যা’ খবর উপস্থাপনা করেন ব্রেট বাইয়ের। উপস্থাপক নিজেই এই খবরের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়ার কথা জানালেও খবরটি বেশকিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করে। এছাড়া রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের ব্লগগুলো ভরে যায় এই খবরে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছিল যে খবর সেটিও নাকি মিথ্যা! এই যখন অবস্থা তখন গণমাধ্যমের সততা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগলে সেটি কি খুব বেশি ভুল হবে?

আপনার মন্তব্য