প্রতি মিনিটে চারজন

29
SHARE

হাসান শাহরিয়ার 

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট্ট একটি দেশ। কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বৃহৎ এবং শক্তিশালী দেশের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের অতি উচ্চ জন্মহার।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি মিনিটে দশমিক জন মানুষ বাড়ছে। ঘণ্টায় বাড়ছে ২৫৩ জন। আর দিনে বাড়ছে হাজার ৭০ জন। বছর শেষে মোট জনসংখ্যার সঙ্গে নতুন যুক্ত হচ্ছে ২২ লাখ ২১ হাজার ৮০০ মানুষ।

প্রতি বছর শেষে জনসংখ্যার সঙ্গে নতুন করে ২২ লাখ ২১ হাজার ৮০০ জন যুক্ত হওয়ায় দ্রুত বেড়েই চলছে আমাদের দেশের জনসংখ্যা।  বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১০ লাখ।

২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে বলা হয়েছে, তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ১৭ কোটি ১৭ লাখ। আর জাতিসংঘের হিসাবে জনসংখ্যা হবে ১৭ কোটি ২৩ লাখ।

বছরে মোট জন্ম মোট মৃত্যুর হিসাব থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই তথ্য বের করেছে সরকারের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্র বলছে, চলমান অবস্থা বজায় থাকলে  ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি ৮৬ লাখ। অর্থাৎ আরও কোটি ৭৬ লাখ মানুষ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উদ্ধৃত করে বিশ্বব্যাংকের এক দলিলে বলা হয়েছে, এই শতাব্দীর মধ্যভাগে দেশের জনসংখ্যা হবে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যা বেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নির্ভর করে মোট প্রজনন হার কী হবে তার ওপর।

বাংলাদেশ জনসংখ্যা খাতে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সম্ভব হয়েছে টিএফআর কমানোর ক্ষেত্রে। নারী প্রজনন বয়সে (১৫ থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত) যে কয়টা সন্তান জন্ম দেয়, সেটাই টিএফআর। স্বাধীনতার সময়, ১৯৭১ সালে টিএফআর ছিল .৪। অর্থাৎ একজন নারী তাঁর জীবদ্দশায় ৬টির বেশি শিশুর জন্ম দিতেন। বর্তমানে টিএফআর .৩। ২০১৬ সালের মধ্যে টিএফআর . করা সম্ভব হলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের মানুষ হবে ২১ কোটি ৮০ লাখের ওপর।

আসলে এসব পরিসংখ্যান নিয়ে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না। এটা নিয়ে ভাবতে থাকুক পরিসংখ্যান ব্যুরো। আমরা চাই, আমাদের জনসংখ্যা বেড়ে যাই দাঁড়াক না কেন। সেটা যেন দেশের জন্য বোঝা না হয়ে বরং সম্পদ হয় সেই দিকে নজর দিতে।

কেননা, পৃথিবীর এমন অনেক উন্নত দেশ আছে, যেসব দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে। ফলে দক্ষ কিংবা অদক্ষ জনবলের সংকটের কারণে সেসব দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। জার্মানির মতো দেশ অভিবাসীদের জন্য নিজ দেশের দরজা খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে, ঠিক এই কারণেই।

এমন আরও অনেক দেশ আছে। তাই আমরা যদি আমাদের জনসংখ্যাকে পর্যাপ্ত শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করতে পারি তাহলে সেটা শুধু আমাদের জন্যই না, বরং গোটা পৃথিবীর জন্যই হতে পারে মূল্যবান সম্পদ।

আপনার মন্তব্য