ব্যাংকেও মিলছে জাল টাকা!

34
SHARE

ইশতিয়াক আহমেদ 

মানুষের টাকা লেনদেনের সব চেয়ে নিরাপদ হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। আর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে আরও নিরাপদ ভেবেই মানুষ তাদের ওপর আস্থা রেখে লেনদেন করে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বহুকষ্টার্জিত সেই টাকাই যদি কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তার কারণে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

খবর পাওয়া গেছে, ঝালকাঠির নলছিটি শহরের সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে গ্রাহককে এক হাজার টাকার একটি জাল টাকার নোট সরবরাহ করা হয়েছিল। ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাল টাকাটি ফেরত নিয়ে ওই গ্রাককে এক হাজার টাকার আরেকটি নোট দিয়েছেন

কিন্তু প্রশ্ন হলো ব্যাংকের মতো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতর এই জাল টাকার নোট প্রবেশ করল কিভাবে? বাইরের কোনো মানুষের পক্ষে তো আর এটা করা সম্ভব নয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শহরের কলবাড়ি এলাকার গাছ ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন সোনালী ব্যাংকের নলছিটি শাখা থেকে গত নভেম্বর নিজের ব্যবহৃত হিসাব থেকে চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকাগুলো তিনি ওই অবস্থায় বাসায় নিয়ে রাখেন। পরে তিনি পূবালী ব্যাংক নলছিটি শাখায় অন্য একটি হিসাবে এক লাখ টাকার ওই বান্ডিলটি জমা দেন। পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ  টাকাগুলো যাচাই বাছাই করার সময় একটি এক হাজার টাকার নোট জাল দেখতে পান।

ঘটনা দেখে বিস্মিত কবির হোসেন পুরো বান্ডিলটি নিয়ে সোনালী ব্যাংকে আসেন। তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জাল টাকা সরবরাহের অভিযোগ করেন।বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. কেফায়েত উল্লাহ জাল এক হাজার টাকার নোটটি ওই গ্রাহকের কাছ থেকে ফেরত নেন। বিনিময়ে নতুন একটি এক হাজার টাকার নোট তাকে দেওয়া হয়

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. কেফায়েত উল্লাহ বলেন, “ভিড়ের মধ্যে হয়তো ভুল হতে পারে। এটার সমাধান হয়ে গেছে। গ্রাহককে টাকাটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।জাল টাকাটি আসলে কোথা থেকে এসেছে?- এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি

আসলে জাল টাকার একটি নোট বদলে দেওয়াটা কোনো সমাধান হতে পারে না। কারণ ব্যবস্থাপক সাংবাদিকদের যে প্রশ্নটির উত্তর এড়িয়ে গেছেন, সমাধান আছে তার মধ্যেই। ভিড়ের মধ্যে ভুলে ব্যাংকের টাকার বান্ডিলে জাল টাকার নোট ঢুকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া জাল টাকার প্রতিরোধের সব ব্যবস্থা তো ব্যাংকে মজুদ থাকে। তাহলে সেটা কি করে হলো? নিশ্চয় ব্যাংকের ওই শাখায় এমন কেউ আছেন যিনি এর সাথে জড়িত। আর এই ধরনের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকগুলোতে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য