বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে চামড়াজাত পণ্য

48
SHARE

হাসান শাহরিয়ার

শুরুতে বাংলাদেশের এককভাবে রপ্তানি পণ্য ছিল পাট ও পাটজাত পণ্য। আজকের বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান বাহন ছিল এটি। সে কারণে তখন বাংলাদেশের পরিচিত সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে।

কিন্তু আজকের বাংলাদেশ অনেক পণ্য রপ্তানি করেই সুনাম অর্জন করেছে। এর মধ্যে তৈরিপোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্য অন্যতম। কিন্তু এর বাইরে বিশ্বের অন্যতম কাঁচা চামড়া রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের সুনাম আছে।

কাঁচা চামড়ার পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। খাতে সম্ভাবনাও বাড়ছে। আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশের চামড়ার মান ভালো হওয়ায় চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের চামড়ার তৈরি জুতাসহ চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। রপ্তানি আয়ে খাতের অবদান দশমিক শতাংশ। গত তিন বছরে চামড়া চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১১১২ অর্থবছরে খাতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১২১৩ অর্থবছরে ৫৩৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ২০১৩১৪ অর্থবছরে হাজার ১২৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি। আর ২০১৪১৫ অর্থবছরে এই রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ৩৯৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি। হিসাবে মাত্র তিন বছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২২৫ শতাংশ।

চামড়া চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও বিগত অর্থবছরে নানা প্রতিকূলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে চীনের বাণিজ্যিক নীতিতে পরিবর্তন আসায় তারা বিশ্ব বাজারে জুতার মতো প্রয়োজনীয় খাত ছেড়ে দিচ্ছে। এখন সে দেশের ছেড়ে দেওয়া জুতার বাজারের বড় অংশ দখলের স্বপ্ন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দেখতেই পারেন।

তাছাড়া, দেশের রপ্তানি এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাকনির্ভর। এই একক পণ্যকেন্দ্রিক রপ্তানির ধ্যান-ধারণা থেকে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী এবং সরকারের সংশ্লিষ্টদের বের হয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্যের দিকে দৃষ্টি দিলে তা বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি রপ্তানি পণ্য।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য