সহিংসতায় আমেরিকা, ভাঙন আসন্ন

24
SHARE

ইউসুফ হায়দার

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এটা নিয়ে সামান্য আবেগ-উচ্ছ্বাস প্রকাশেরও সুযোগ পেলেন না তিনি। বরং নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রচারের সাথে সাথেই নতুন নতুন বিপদে পড়ছেন তিনি।

ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে সহিংস প্রতিবাদ। যা আমেরিকান রাজনীতি ও নির্বাচন সংস্কৃতিতে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুর্ভাবনারও বিষয়। তাছাড়া ইতোমধ্যে দুটি রাজ্যের নাগরিকরা আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার দাবি তুলেছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অখন্ডতা ভাঙনের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এতকিছুর পরও থামছে না ট্রাম্পবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, জনরোষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হয়েছে দেশটিকে। এরই অংশ হিসেবে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিলাসবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে বালুবোঝাই ট্রাক মোতায়েন করতে হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বুধবার থেকেই ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে নিউইয়র্ক পয়োঃনিষ্কাশন বিভাগের অনেকগুলো বালুবোঝাই ট্রাক মোতায়েন করা হয়। এর মাধ্যমে টাওয়ারের চারদিকে প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য জানিয়েছেন, অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বিস্ফোরণজনিত ঘটনা থেকে ট্রাম্প টাওয়ারকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেমহানায়কহয়ে ওঠা জ্যোতিষী অধ্যাপক অ্যালান লিখটম্যান ট্রাম্পের জন্য দুঃসংবাদও দিয়ে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক বলেছেন, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ করতে পারবেন না, তাকে অভিশংসন করা হবে।

এবারের মার্কিন নির্বাচনের আগে সব জনমত জরিপে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকলেও লিখটম্যান বলেছিলেন, ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সব হিসাব উল্টে গিয়ে তার সেই পূর্বাভাসই সত্যি হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্টকে লিখটম্যান বলেছিলেন, ‘রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় না, কারণ তাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, তিনি কখন যে কী করেন, তার ঠিক নেই। তবে আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা পকেট ভরতে এমন কিছু করবেন, যা তাকে অভিশংসন করার সুযোগ তৈরি করবে।
এর আগে আইন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্রিস্টোফার পিটারসনও জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পকে ইমপিচ করা হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ দায়ের করার মতো যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। এর ফলে তাকে তার দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে হতে পারে।

ট্রাম্পের জন্য একই দুঃসংবাদ দিয়েছেন মাইকেল মুর। নির্বাচনের আগে সবাই যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি ক্লিনটনকে দেখছিলেন; তখনও মাইকেল মুর বলছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনাই দেখেছেন তিনি। সেই কথা ফলে যাওয়ার পর এখন বলছেন, হয় কেলেংকারিতে জড়িয়ে নিজেই পদত্যাগ করবেন ট্রাম্প, নয়তো তাকে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়ে পদ ছাড়তে হবে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism


 

আপনার মন্তব্য