হায়রে মুসলিম…সবখানেই মার খাচ্ছে

41
SHARE

ইশতিয়াত আহমেদ 

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ১৩ নভেম্বর (রোববার) দাবি করেছে, ‘রোহিঙ্গা মুসলিম গেরিলাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে জন নিহত হয়েছে এছাড়া ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে

অথচ, স্যাটেলাইট থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ জানিয়েছে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসকাণ্ড চালানো হয়েছে গত ২২ অক্টোবর এবং ১০ নভেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, রাখাইনের মংদাউ জেলার পিয়াং পিত, কিত ইয়ো পিন এবং ওয়া পিক গ্রামে ৪৩০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে

এইচআরডাব্লিউ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, স্যাটেলাইট চিত্রগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, সেখানে ধারণার চেয়েও বেশি ধ্বংসকাণ্ড চালানো হয়েছে গত মাসে সীমান্ত চৌকিতে দুর্বৃত্তদের হামলার পর থেকেই রাখাইন রাজ্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের সরকার বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালিয়েছে তবে তারা সেটার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি গত কয়েক বছর ধরেই রাখাইন রাজ্যের উগ্র বৌদ্ধরা মাঝে মধ্যেই সেখানকার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে তারা বহু মুসলমানকে হত্যা করেছে এবং শত শত ঘরবাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে সর্বশেষ ১০ নভেম্বর হামলা চালিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যা করেছে।

 

আসলে মিয়ানমারের পোড়ামাটি নীতির ফলে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জনপদ আরাকান এখন জ্বলছে অবরুদ্ধ আরাকান জুড়ে রোহিঙ্গা শিশু আবালবৃদ্ধ বণিতার লাশ আর লাশ  আরাকানে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বিশ্ব মোড়লদের দ্বৈতনীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিষ্ক্রিয়তা আধিপত্যবাদী মিয়ানমারের আগ্রাসী নীতির ফলে রোহিঙ্গা জনগণ আজ অসহনীয় অত্যাচারনির্যাতনের শিকার

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করেও আরাকানের মুসলমানরা আজো পরদেশী তাদের নির্মূল করাই যেন এখন মিয়ানমারের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছেফলে তাদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারছে, গুলি করে মারছে, যখন-তখন বন্দি করে জেলে পুড়ছে। সম্পদ হানির কথা নাই-বা বললাম। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে কখনো তারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে, কখনো যাচ্ছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়াসহ নিকবর্তী অন্যকোনো দেশে। আর এভাবে দেশ ছাড়তে গিয়েও হাজার হাজার রোহিঙ্গা সাগরে ডুবে কিংবা দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে মারা পড়ছে।

নিজের দেশের সেনাবাহিনী তথা রাষ্ট্রের হাতে এভাবে আর কোনো দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদহানির ইতিহাস বিরল।তারপরও বিশ্বমোড়লরা তাদের যথাযথ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসছে না দেশহীন এই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে। বরং দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার পর এখন মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা কিংবা অন্যান্য কারণে সম্পর্ক গড়তে উঠেপড়ে লেগেছে পরাশক্তিগুলো।

ফলে রোহিঙ্গারা দিন দিন অস্তিত্ব হারিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে অতল গহ্বরে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism


 

আপনার মন্তব্য