সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী

61
SHARE

বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় যথেষ্ঠ পারদর্শী- এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও একটি অপূর্ণত ছিল তাদের। আর সেটা হলো আমাদের নৌবহরে কোনো সাবমেরিন না থাকায় এতদিন সমুদ্রের তলদেশে তাদের শক্তি-সামর্থ্যের জানান দেওয়ার সুযোগ ছিল সীমিত।

ফলে সমুদ্রের উপরিভাগে এবং আকাশে শত্রুপক্ষের বিপক্ষে যেকোনো প্রতিরোধ কিংবা লড়াই করবার মতো শক্তি সামর্থ্য তাদের যথেষ্ঠ থাকলেও সমুদ্রের গভীরে চলচালের জন্য তেমন কোনো সুযোগ ছিল না। আধুনিক নৌবাহিনীর অন্যতম বাহন সাবমেরিন না থাকার সেই অপূর্ণতাই এবার পূরণ হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর।

এর ফলে ত্রিমাত্রিক নৌশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজের বর্ধিত সমরশক্তির জানান দিতে পারবে বাংলাদেশ।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে চীনের তৈরি দুই সাবমেরিন। সোমবার চীনে অবস্থানরত নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদএর কাছে সাবমেরিন দুটি হস্তান্তর করেছেন চীনের রিয়ার এডমিরাল লিউ জিঝু। উপলক্ষে চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওনান শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চীন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিকবেসামরিক কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ০৩৫ জি ক্লাসের সাবমেরিন দুটি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। আগামী বছরের শুরুতে বানৌজানবযাত্রাএবং বানৌজাজয়যাত্রানামের দুই সাবমেরিন বাংলাদেশের নৌবহরে যুক্ত হবে।

সাবমেরিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চীন থেকে দুটি সাবমেরিন সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসাবে যাত্রা শুরু করলো। তিনি এই সাবমেরিন দুটির নতুনভাবে সজ্জিতকরণ এবং ক্রুদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য চীনা নৌবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

জানা গেছে, কনভেনশনাল সাবমেরিন দুটি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন। এগুলো দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে দশমিক মিটার। সাবমেরিনগুলো টর্পেডো মাইন দ্বারা সুসজ্জিত যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ সাবমেরিনে আক্রমণ করতে সক্ষম।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য